পেশায় তিনি ছিলেন একজন রিকশাচালক। রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে এবং মানুষের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে চলত মা, স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ। কিন্তু একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে মো. কালামের উপার্জনের চাকা। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারটি আজ চরম অভাব ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
প্রায় এক বছর আগে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন কালাম। ঘাস কাটার ব্লেডের আঘাতে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাকি আঙুলগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে হাতের তালুর চামড়ার একটি বড় অংশ কেটে যায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা তার পেট ও হাঁটুর ওপর থেকে মাংস ও চামড়া নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাতে প্রতিস্থাপন করেন।
চিকিৎসার পেছনে নিজের সহায়-সম্বল বলতে যা ছিল, সবই শেষ করেছেন তিনি। জমানো টাকা শেষ করে, গরু-ছাগল বিক্রি করে এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও এখনো শেষ হয়নি তার চিকিৎসা। বর্তমানে তার পেটের চামড়া দিয়ে ডান হাতের তালুর একাংশ জোড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে হাতটি সুস্থ করতে এবং পেটের সঙ্গে যুক্ত অংশটি আলাদা করতে প্রয়োজন আরও অনেক টাকা।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি আজ সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ও কর্মক্ষমতাহীন। অর্থাভাবে থমকে গেছে তার পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম।
একদিকে চিকিৎসার বাকি খরচ জোগাড়ের চিন্তা, অন্যদিকে ঘরে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার আকুতি—সব মিলিয়ে তীব্র অভাব ও অনাহারে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।
আকুতি জানিয়ে কালাম বলেন, আমি একসময় রিকশা চালিয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতাম। আজ আমি পঙ্গু ও কর্মহীন। আমার পরিবারও না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির এলাকার লোক। তাঁর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিন। আমি আবার সুস্থ হয়ে কাজ করে খেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, দেশের কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি বা সরকার যদি আমাকে সাহায্য করতে চান, তবে আমার ০১৩১৯৫৭২২০১ নম্বরে যোগাযোগ করে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
স্বামীর এই করুণ অবস্থা এবং ঘরের চরম অনাহারের কথা তুলে ধরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালামের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সন্তান, শাশুড়ি এবং আমাদের দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা তিনিই করতেন। আজ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঘরের খাবার জোগানোর কেউ নেই। দিনের পর দিন সন্তানদের নিয়ে খেয়ে-না-খেয়ে থাকতে হচ্ছে। গরু-ছাগল বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে চিকিৎসার পেছনে সব শেষ করেছি। এখন আর কোনো পথ খোলা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন, তারা যেন আমার স্বামীকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় শম্ভুপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আলমগীর বলেন, কালাম অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দরিদ্র একজন মানুষ ছিলেন। রিকশা চালিয়েই কষ্ট করে সংসার চালাতেন। দুর্ঘটনার পর তিনি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে তার পরিবার আজ চরম নিঃস্ব ও অনাহারী। কালামের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন, যা এই পরিবারের পক্ষে আর জোগাড় করা সম্ভব নয়। বিত্তবানদের পাশাপাশি সরকার যদি মানবিক দৃষ্টিতে এগিয়ে আসে, তবেই কালাম সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং পরিবারের সদস্যদের না খেয়ে দিন কাটাতে হওয়ায় কালাম এখন বাঁচতে চান। চিকিৎসার খরচ জোগাতে এবং পরিবারকে অনাহার থেকে বাঁচাতে তিনি দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন।