গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের প্রায় সাত মাস পর ঢাকার সাভার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্ত হোসেন আলী (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাদুল্যাপুর উপজেলার চকভগবানপুর গ্রামের মৃত মুছা মিয়ার ছেলে হোসেন আলীর বিরুদ্ধে পাশ্ববর্তী দৌলতপুর গ্রামের এক হিন্দু পরিবারের অষ্টম শ্রেণির ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের প্রলোভনে ফেলে গত ৬ জানুয়ারি কৌশলে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা পরেশ চন্দ্র শীল সাদুল্যাপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সুপদ হালদার জানান, ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে গত ৫ আগস্ট ঢাকার সাভারের গেন্ডা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথমে হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত হোসেন আলী ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন, বাসা পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর বদল এবং 'সোহেল' নামে পরিচয় ব্যবহার করায় তাকে শনাক্ত ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে কিছুটা সময় লেগেছে।
এসআই সুপদ হালদার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মামলার বাদী পরেশ চন্দ্র শীল দাবি করেন, তার নাবালিকা কন্যাকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন মতামত দিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত ও স্কুলছাত্রীর মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।