সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। আদালতের নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হলেও তিনি আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ আবেদন ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তার ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, জামিনে মুক্তি পেলেও বেনজীর আহমেদের ওপর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং এ-সংক্রান্ত আইনি বিষয় আদালতে পর্যালোচনা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে ১২ জুন দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করে।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। নথিতে তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুবাইয়ের আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বেনজীর আহমেদের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান।