পরিকল্পিত, টেকসই ও আধুনিক মহানগর গড়ার লক্ষ্যে ২০২৫-২০৫০ মেয়াদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া চূড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। নতুন এই মহাপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের পৌরসভা ও উপজেলার মোট ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনায় ২৭৬টি উন্নয়ন প্রকল্প রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পরিবহন খাতে ১০১টি এবং ড্রেনেজ উন্নয়নে ২১টি প্রকল্প রয়েছে।
শনিবার চউকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন নাগরিকদের মতামত ও আপত্তি গ্রহণের পর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। নাগরিকরা সরাসরি চউক ভবনে অথবা ডিজিটাল ওয়েব-জিআইএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবেন।
চউক জানায়, প্রায় ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
মাস্টারপ্ল্যানে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খনন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণ, বিশেষ অ্যাকশন এরিয়া প্ল্যান এবং ভূমি মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া কর্ণফুলী টানেলকে কেন্দ্র করে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণার আওতায় আনোয়ারার জন্য পৃথক পরিকল্পনা এবং নগরীর চাপ কমাতে ‘পলিকেন্দ্রিক গ্রোথ মডেল’ বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চউক চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়, খাল ও জলাধারের বড় অংশ হারিয়ে গেছে। নতুন মহাপরিকল্পনায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।