হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা পরিষদের কালাউক হেডকোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে সীমানা প্রাচীরবিহীন থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আবাসিক এলাকা ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের কারণে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১৫ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে কর্নেল এবিএম ইলিয়াস, কমান্ডিং অফিসার (৩৩ পদাতিক ডিভিশন), লাখাইকে মানোন্নীত থানা হিসেবে উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে কালাউকে লাখাই উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় এখানে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতও ছিল। ১৯৯৩ সালে আদালতগুলো হবিগঞ্জ জেলা সদরে স্থানান্তরিত হলেও উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ ও আবাসিক এলাকার চারপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অফিসার্স কোয়ার্টারসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিরাপত্তাহীনতা ও জরাজীর্ণ পরিবেশের কারণে অনেক কর্মকর্তা সরকারি কোয়ার্টারে না থেকে হবিগঞ্জ জেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। এতে বহু সরকারি কোয়ার্টার খালি পড়ে থাকায় সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বসবাসের উপযোগী পরিবেশ না থাকার পাশাপাশি সীমানা প্রাচীরের অভাবে দিন-রাত বখাটেদের আনাগোনা লেগেই থাকে। ফলে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা প্রকৌশল বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) একেএম আবদুস শাহেদ, প্রকল্প কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রাকিব এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের উৎপাত বেড়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, “রাতে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে টহলে বের হলে উপজেলা পরিষদ এলাকায় বহিরাগত ও বখাটেদের অবস্থান করতে দেখা যায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “সীমানা প্রাচীর না থাকায় উপজেলা পরিষদ ও আবাসিক এলাকা অরক্ষিত রয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি নৈশপ্রহরী নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা পরিষদ ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।