দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও তীব্র পানিসংকটের মধ্যে বৃষ্টির আশায় বিশেষ নামাজ আদায় করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর দুই হাজারেরও বেশি মুসলিম। শনিবার তিরুচিরাপল্লির থেন্নুরের উজাভার সান্ধাই মাঠে এই প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজ্যের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তামিলনাড়ু মারাত্মক পানিসংকটের মুখে পড়েছে। এছাড়া কাবেরী নদীর পানি তামিলনাড়ুর দিকে না আসায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে এবং শুকিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জলাশয়।
বদ্বীপ অঞ্চলের কৃষি ও পানীয় জলের প্রধান উৎস কাবেরী নদীতে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। তিরুচিরাপল্লির হ্রদ ও পুকুরগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষক, সাধারণ মানুষ ও গবাদিপশু চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তিরুচিরাপল্লি জেলা জামাতুল উলামা সভা থেন্নুরের উজাভার সান্ধাই মাঠে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ 'সালাতুল ইসতিসকা'-র আয়োজন করে। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল হক রশাদি এবং সাধারণ সম্পাদক আমুল হাসান হজরত। এই আয়োজনে ইসলামি স্কলার, আলেম-ওলামাসহ দুই সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।
প্রার্থনার সময় অংশগ্রহণকারীরা অঝোর নয়নে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে খরা থেকে মুক্তি এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির মাধ্যমে রাজ্যে দ্রুতই স্বস্তি ফিরে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে তামিলনাড়ু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নির্দেশে গঠিত এই কমিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থার বিষয়ে পরামর্শ দেবে।
গত ২৮ জুলাই রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক আদেশে বলা হয়, তামিলনাড়ু দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সংস্থার (টিএনডিআরআরএ) অধীনে এই কমিটি কাজ করবে। তারা এল নিনোর প্রভাব নিরূপণ করার পাশাপাশি খরা, বন্যা ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি কমানোর উপায় বাতলে দেবে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হলে কাবেরী নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।