ভারতের উত্তর প্রদেশে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। চার মাস ধরে নিখোঁজ থাকার পর স্ত্রীকে খুঁজে পেলেও তাকে জোর করে ফিরিয়ে আনেননি এক স্বামী। বরং স্ত্রীর ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়ে নিজের উপস্থিতিতেই প্রেমিকের সঙ্গে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশের চান্দৌলি জেলায় এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চার মাস আগে প্রেমিকের সঙ্গে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার পরও তাকে জোর করে সংসারে ফেরাননি স্বামী। বরং স্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নিজের উপস্থিতিতেই প্রেমিকের সঙ্গে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পেশায় ওয়েল্ডার জীবনাথ রাজভর কাজের সুবাদে দিল্লিতে থাকতেন। এ সময় চান্দৌলিতে তাদের তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন তার ৪৫ বছর বয়সী স্ত্রী সরিতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বামীর অনুপস্থিতিতে ট্রেনে বাদাম বিক্রি করা অজয় নামে এক যুবকের সঙ্গে সরিতার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে স্বামী ও সন্তানদের রেখে অজয়ের সঙ্গে চলে যান সরিতা।
চার মাস পর একটি রেলস্টেশনে হঠাৎ সরিতা ও অজয়কে দেখতে পান জীবনাথ। স্ত্রীকে ফিরে আসার অনুরোধ জানালেও সরিতা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি অজয়ের সঙ্গেই থাকতে চান।
স্ত্রীর সিদ্ধান্তে বাধা না দিয়ে জীবনাথ তাদের দুজনকে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তার উপস্থিতিতেই সরিতা ও অজয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে জীবনাথ বলেন, “আমি চেয়েছিলাম সে আমার সঙ্গেই থাকুক। কিন্তু সে যখন ফিরতে রাজি নয়, তখন জোর করে তাকে আটকে রাখার কোনো অর্থ নেই।”
অন্যদিকে সরিতার দাবি, সংসারের খরচের জন্য জীবনাথ নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন না। এ কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই ফোনে ঝগড়া-বিবাদ হতো, যা দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ জীবনাথের সিদ্ধান্তকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে একটি পরিবারের ভাঙনের বেদনাদায়ক পরিণতি বলে মন্তব্য করছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।