যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক নাগরিক মনে করেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। নতুন এক জনমত জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইকোনমিস্ট-ইউগভ পরিচালিত জরিপে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। এতে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। বিপরীতে ২৭ শতাংশ মনে করেন, তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। আর ২৩ শতাংশ এ বিষয়ে অনিশ্চিত মত প্রকাশ করেন।
গাজায় হামাসবিরোধী সামরিক অভিযানের সময় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হেগভিত্তিক কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল শুরু থেকেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জরিপে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক মতামতেও স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৬৮ শতাংশ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ২৪ শতাংশ, আর স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধে দোষী কি না—এ প্রশ্নের উত্তরেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফলটি ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধকে ঘিরে মার্কিন জনমতের ক্রমবর্ধমান বিভক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যেও নেতানিয়াহুকে নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি (AP-NORC) সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জুন মাসের জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি-আমেরিকান নেতানিয়াহুকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। বিপরীতে প্রায় ৬০ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে ৪২ শতাংশের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ‘খুবই নেতিবাচক’।
একই জরিপে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ৪৪ শতাংশ ইহুদি-আমেরিকান ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ নেতিবাচক মত দিয়েছেন। ফলে ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে সরব এই রাজনীতিক জনপ্রিয়তার দিক থেকে নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে।
এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৩০ শতাংশ ইহুদি-আমেরিকান মনে করেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি দুই নেতার অষ্টম বৈঠক।
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহু প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও তার এ সফরকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীরা।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তার গ্রেপ্তারের আহ্বানও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।