ভারতে চলমান আন্দোলন ঘিরে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আগামীকাল থেকেই তারা আবারও রাজপথে কর্মসূচি শুরু করবে।
সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি প্রথমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে তাদের অন্যতম দাবি পূরণ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে, ৩৭ দিন ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলা অবস্থান কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এরপরই সরকার সমঝোতার শর্ত মানেনি।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে বহু শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নজরদারি ও হয়রানির অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং নতুন কোনো মামলা না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যথায় সংগঠনটি আবারও দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবে। একই সঙ্গে সরকারের প্রতিশ্রুত লিখিত চুক্তিপত্র দ্রুত হস্তান্তরের দাবিও জানানো হয়েছে।
এর আগে কনস্টিটিউশন ক্লাবে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছিল, নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে। সে সময় সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে এবং চার সপ্তাহ পর আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ক্ষেত্রে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা উচিত। অন্যদিকে, পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে লোকসভায় বিরোধী দলের সদস্যদের বিক্ষোভে অধিবেশনও কয়েক দফা ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্র সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন একটি বিলও সংসদে উত্থাপন করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি