ইরানে টানা ১৩ দিন সামরিক অভিযান চালানোর পর হামলা বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৬ জুলাই) রাত থেকে মার্কিন হামলা থেমে যাওয়ার পর শনিবারও নতুন কোনো আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এর ফলে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পশ্চিম এশিয়ায়। যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করার পর ইরানও সাময়িকভাবে পাল্টা হামলা বন্ধ রেখেছে।
তবে হঠাৎ করে কেন হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ পরামর্শ পাওয়ার পরই হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িক বিরতির পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন, অভিযান দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান তিনি। যদিও মার্কিন সেনাবাহিনী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার বিষয় সাধারণত প্রকাশ করা হয় না।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা না চালালে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় আর কোনো আক্রমণ করবে না। তবে আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রোববার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই ট্রাম্প সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিবাদে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানসহ কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা আগে থেকেই প্রস্তুত করেছিল ওয়াশিংটন এবং এর বেশির ভাগ লক্ষ্যেই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলা বন্ধের পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।