জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এদিকে ভূমিকম্পের পরপরই জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) সুনামি সতর্কতা জারি করেছে। খবর মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির।
জেএমএ জানিয়েছে, কুমামোতোর পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত আরিয়াকে উপসাগরের জন্য এই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এলাকাটি রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার বা ৫৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের পর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলেও জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাছাকাছি থাকা তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ভূমিকম্পের পর জাপান সরকার কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা ও মিয়াজাকি প্রিফেকচারের জন্য জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছে। এসব অঞ্চল জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে অবস্থিত।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রায় ১ মিটার (৩.২৮ ফুট) উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান। দেশটিতে গড়ে প্রতি পাঁচ মিনিটে অন্তত একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আগ্নেয়গিরি ও গভীর সমুদ্রখাতবেষ্টিত ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান হওয়ায় বিশ্বের ৬.০ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প জাপানেই সংঘটিত হয়।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে কুমামোতোতে আঘাত হানা শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন।
কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৪০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জেআর কিউশু জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের ট্রেন চলাচল, এমনকি উচ্চগতির বুলেট ট্রেনের চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।