রাজধানী ঢাকায় ‘ছাতা বোমা’ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঢাকার উপকণ্ঠে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে প্রেশার কুকারের ভেতরে তৈরি একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট। পুলিশের ভাষ্য, বোমাটিতে বিপুল পরিমাণ বিয়ারিংয়ের বল ও বিস্ফোরক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ব্যক্তি চারাবাগ এলাকার একটি চায়ের দোকানে এসে ৫০০ টাকার নোট ভাঙানোর কথা বলেন। দোকানদারের কাছে ভাঙতি না থাকায় তিনি কিছুক্ষণের জন্য একটি ব্যাগ রেখে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ফিরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগ খুলে স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং রাতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেখানে পৌঁছায়।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় এটি একটি শক্তিশালী আইইডি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রেশার কুকারের ভেতরে বিপুল সংখ্যক বিয়ারিংয়ের বল ও বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করে বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল। কোন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ভোরের দিকে কাছের একটি খালি মাঠে গর্ত খুঁড়ে, চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে পাশের একটি সীমানা প্রাচীরের অংশ বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতর থেকে পাইপ বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনার তদন্তও এখনও চলমান রয়েছে।