বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (ইমপ্যাক্ট)-৩য় পর্যায় (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১২টায় উপজেলার জামিরবাড়িয়া খোদেজা হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক মো. সাহাবুদ্দীন সরদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমপ্যাক্ট-৩য় পর্যায় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মফিজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের বায়োগ্যাস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহফুজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামিরবাড়িয়া যুব কল্যাণ সমিতির সভাপতি আতিকুল ইসলাম বিপ্লব।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের ক্রেডিট মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মো. ফজলে রাব্বী, জামিরবাড়িয়া খোদেজা হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, স্থানীয় বায়োগ্যাস প্লান্টের মালিক এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী উপকারভোগীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বায়োগ্যাস প্রযুক্তি শুধু পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর আত্মকর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করবেন, যা তাদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজ নিজ এলাকায় বায়োগ্যাস প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সম্ভাব্য উদ্যোক্তা, বায়োগ্যাস প্লান্টের মালিক এবং আগ্রহী যুবক-যুবতীরা অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জৈব সার উৎপাদনের বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।