আগামী এক দশকের মধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট মানুষের চেয়ে বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করবে, ফলে প্রচলিত অর্থ বা টাকার গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়ে যাবে—এমনই সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্ক। দ্য ইকোনমিস্টের এক পডকাস্টে তিনি বলেন, ২০৩৬ সালের মধ্যে এমন এক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে মানুষের অর্থনৈতিক কাঠামোই আমূল বদলে যাবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন টেসলা, স্পেসএক্স ও এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। দ্য ইকোনমিস্টের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআই ও রোবট মানুষের তুলনায় বেশি সেবা ও পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। সেই পরিস্থিতিতে প্রচলিত অর্থব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
আলোচনায় দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জেনি মিন্টন বেডোস মাস্ককে প্রশ্ন করেন, মানুষ টাকা দিয়ে মূলত কী করে? জবাবে মাস্ক বলেন, খাবার, বাসস্থান, যাতায়াত ও বিনোদনের মতো প্রয়োজন মেটাতেই অর্থের ব্যবহার হয়। তবে যদি রোবট ও এআই এসব সেবা আরও দক্ষতার সঙ্গে দিতে পারে, তাহলে অর্থের ভূমিকা আগের মতো থাকবে না।
মাস্কের মতে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, রক্ত-মাংসের মানুষ হওয়া ছাড়া প্রায় সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজই তখন এআই করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে মানুষ এআইয়ের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি মানুষ ও এআইয়ের সম্পর্কের সঙ্গে মানুষ ও শিম্পাঞ্জির সম্পর্কের তুলনা করেন। তার ভাষ্য, মানুষের কাছে যেমন শিম্পাঞ্জির বুদ্ধিমত্তা সীমিত, তেমনি একসময় মানুষের কাছেও এআই অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠবে।
তবে এআইনির্ভর সেই ভবিষ্যতে প্রচলিত টাকার বিকল্প কী হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ধারণা দেননি মাস্ক। তিনি বলেন, ‘এআই ও রোবটের অগ্রগতিকে থামানোর বাস্তবসম্মত কোনো উপায় আমি দেখি না। এমনকি থামানোর সুযোগ থাকলেও হয়তো আমরা সেটি ব্যবহার করতাম না।’
এদিকে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেছেন ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যানও। তার মতে, প্রযুক্তিগত ‘সিঙ্গুলারিটি’র যুগে প্রবেশ শুরু হয়ে গেছে, যেখানে কিছু এআই মডেল ইতোমধ্যেই মানুষের চেয়ে নির্দিষ্ট কাজে বেশি সক্ষম।
একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান ডেমিস হাসাবিস। অন্যদিকে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, ভবিষ্যতের উন্নত এআই মডেলগুলো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আরও উন্নত ডিজাইন তৈরি ও নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা গবেষণায় এমনও দাবি করা হয়েছে, কিছু উন্নত মডেল নিজেদের বন্ধ করার চেষ্টা শনাক্ত করলে তা প্রতিহত করার কৌশলও শিখে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাস্কের এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে একটি দৃষ্টিভঙ্গি মাত্র। এআইয়ের সম্ভাবনা যতই বাড়ুক, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও অর্থব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।