মানুষের একাকীত্ব কমাতে এবং দৈনন্দিন জীবনে মানসিক সঙ্গী হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন মানুষসদৃশ (হিউম্যানয়েড) রোবট উন্মোচন করেছে চীনের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর এই রোবট ভবিষ্যতে বয়স্কদের সেবা, শিক্ষা, গবেষণা এবং ঘরোয়া নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) চীনের শেনজেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোবটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মানুষসদৃশ রোবট, যা ব্যাপক পরিসরে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে রোবটটির তিনটি সংস্করণ বাজারে আনা হয়েছে। উদ্বোধনের দিনেই ১৩ হাজার ৩৬১টির বেশি অর্ডার পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজের জন্য রোবট ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী সময়ে এটি মানুষের ব্যক্তিগত সহকারী ও সঙ্গী হিসেবে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। মানুষ ও রোবটের মধ্যে আরও স্বাভাবিক ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
নতুন রোবটটিতে মানুষের মতো নরম কৃত্রিম ত্বক, বাস্তবসম্মত মুখের অভিব্যক্তি এবং শান্ত কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মানুষের আবেগ বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি, রোবটটি ২০টিরও বেশি ধরনের আবেগ শনাক্ত করতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে এর নির্ভুলতার হার ৯০ শতাংশের বেশি।
এ ছাড়া দীর্ঘ সময়ের কথোপকথন মনে রেখে আগের তথ্যের ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারে রোবটটি। ফলে এটি ব্যবহারকারীর সঙ্গে আরও ব্যক্তিগত ও স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
শুধু মানসিক সঙ্গী হিসেবেই নয়, বয়স্কদের পরিচর্যা, অতিথি অভ্যর্থনা, পর্যটন, শিক্ষা, গবেষণা এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজেও রোবটটির ব্যবহার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
একই অনুষ্ঠানে সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মধ্যে একা বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তি, বাবা-মা থেকে দূরে থাকা শিশু এবং অসহায় পরিবারের জন্য ১০০টি বিশেষ মানুষসদৃশ রোবট বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব রোবটে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মুখাবয়ব ও কণ্ঠস্বরের অনুকরণে বিশেষ সুবিধা যুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সঙ্গ পেতে পারেন।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রোবটটি তৈরি করা হয়েছে। তথ্যের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর হাতেই থাকবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইনির্ভর এই মানুষসদৃশ রোবট ভবিষ্যতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহচর হয়ে উঠতে পারে।