বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে চীন। জার্মানির হামবুর্গে মঙ্গলবার প্রকাশিত দ্বিবার্ষিক ‘টপ ৫০০’ তালিকা অনুযায়ী, চীনের ‘লাইনশাইন’ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টারে স্থাপিত লাইনশাইন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। অর্থাৎ এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ কুইন্টিলিয়নেরও বেশি গণনা সম্পন্ন করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’-কে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে চীনের এ সুপারকম্পিউটার।
টপ ৫০০ তালিকার তথ্য অনুযায়ী, লাইনশাইনের সক্ষমতা এল ক্যাপিটানের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে চীনের ‘সানওয়ে তাইহুলাইট’ বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার হিসেবে শীর্ষে ছিল।
বর্তমানে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’, যা ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে স্থাপিত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ‘ফ্রন্টিয়ার’। এছাড়া চতুর্থ স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অরোরা’ এবং পঞ্চম স্থানে জার্মানির ‘জুপিটার’ রয়েছে।
জিপিইউ ছাড়াই নতুন ইতিহাস: লাইনশাইনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এটি সম্পূর্ণ সিপিইউ নির্ভর প্রযুক্তিতে নির্মিত। সাধারণত আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং ব্যবস্থায় জিপিইউ ব্যবহৃত হলেও, লাইনশাইন জিপিইউ ছাড়াই ২ এক্সাফ্লপসের বেশি পারফরম্যান্স অর্জন করে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিপিইউ-ভিত্তিক নকশায় এমন ক্ষমতা অর্জন চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি উন্নয়নের সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ।
প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় নতুন বার্তা: টপ ৫০০ তালিকার অন্যতম সংগঠক এবং টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক জ্যাক ডোঙ্গারা বলেন, লাইনশাইনের সাফল্য প্রমাণ করে যে উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তিতে চীন এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চিপ রফতানি নিয়ন্ত্রণ চীনের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি করলেও একই সঙ্গে দেশটিকে নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আরও উৎসাহিত করেছে।
শুধু এআই নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও গুরুত্ব: বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপারকম্পিউটার কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নেই নয়, জলবায়ু গবেষণা, মহাকাশ অনুসন্ধান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, পারমাণবিক গবেষণা এবং জটিল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারসেক্ট৩৬০ গবেষণা এর সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডিসন স্নেল বলেন, এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা মানেই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া নয়। গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকম্পিউটিং অবকাঠামোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, লাইনশাইনের শীর্ষস্থান অর্জন শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; বরং বিশ্ব প্রযুক্তি নেতৃত্বের লড়াইয়ে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তিরও প্রতিফলন।