বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন ও বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় অপরাধ দমনে নতুন কৌশল নিয়েছে বন বিভাগ। শিকারি ও অসাধু জেলেদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ৯টি খালের মুখে কাঠের বেষ্টনী নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের দাবি, এ দুই উদ্যোগের ফলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, মাছের পোনা নিধন এবং হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে তিন মাসের মাছ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এ সময়ে বনাঞ্চলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ ও বন্যপ্রাণী শিকার ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা খাল ও দাসের বাড়ানি (ডাকাতের খাল) এবং চাঁদপাই রেঞ্জের মরা ভদ্রার ভাড়ানি, জিয়ার ভাড়ানি, নওশের আলী ভাড়ানি, সূর্যমুখী খাল, ঢাংমারী স্টেশনের হুলার ভাড়ানি, করমজল স্টেশনের চারা খালি ও ৮ নম্বর খালেকের ভাড়ানিসহ মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মুখ কাঠের বেষ্টনী দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, অসাধু চক্রের যাতায়াত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে কাঠের বেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছে। এতে মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জানান, ড্রোনের মাধ্যমে অল্প সময়েই বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রধান খালগুলোর মুখ বন্ধ করার পর অভয়ারণ্য এলাকায় অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জলজ প্রাণী, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র এবং সুন্দরবনের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় শুধু বন বিভাগের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় জনগণ, জেলে সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, কাঠের বেষ্টনী ও ড্রোন নজরদারির সমন্বিত ব্যবস্থার ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী আরও নিরাপদ থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।