শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীর সহায়তায় আজ মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সেই সঙ্গে আটক করা হয়েছে তিন ব্যক্তিকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গৃহবধূর স্বামীকে নেওয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।
শরীয়তপুরের নাড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীর সহায়তায় আজ (২৮ জুলাই) ভোরে ওই নারীকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়ির থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে তিনজনকে। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গৃহবধূর স্বামীকে নেওয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে উপজেলার একটি গ্রামের এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের ওই গৃহবধূর স্বামীকে পূর্বপরিচিত কয়েকজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তার স্বামীকে উপজেলার একটি নির্জন স্থানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তাকে দিয়ে ফোন করিয়ে স্ত্রীকে ওই নির্জন স্থানে ডেকে আনেন তারা। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই নারীকে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। ওই নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে ছুটে যান এবং তারা ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশকে জানান।
স্থানীয় মানুষের সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায় নড়িয়া থানার পুলিশ। তাকে বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে অভিযান চালিয়ে আজ সকালেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬)।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া থানার ওসি বাহার মিয়া। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রির কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশ তদন্ত করে পুরো বিষয় খতিয়ে দেখছে। আর ধর্ষণের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন জানিয়ে এক নারীকে ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। ধর্ষণের বিষয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
ওই নারী আজ দুপুরে সদর হাসপাতালের শয্যায় বসে ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গতকাল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পাশের একটি গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। এরপর রাত ১০টার দিকে আমাকে ফোন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সেখানে যেতে বলে। গিয়ে দেখি, আমার স্বামীকে একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ওই সময়ে তাকে আরেকটি গাছের আড়ালে নিয়ে মুখ চেপে ধরে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করে। তাদের থেকে বাঁচার জন্য অনেক কাকুতি–মিনতি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাদের হাতে-পায়ে ধরেন এবং তারা কোনো কথা শোনেনি বলে জানান ওই ভুক্তভোগী নারী।