গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দেশের উন্নয়নের জন্য কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ার শেরপুরে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে অনুষ্ঠিত ‘৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ফলে কৃষিকাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের হাতে পৌঁছাতে পারলে উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়বে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে রাজনৈতিক বিতর্কের তুলনায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের সাফল্য অনেক কম আলোচিত হয়। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে গবেষণার অবদান গণমাধ্যমে আরও বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের সমস্যা শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ, কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা, বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে আরও কার্যকর গবেষণা ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সবচেয়ে বেশি লাভ মধ্যস্বত্বভোগীরা নিয়ে যায়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারজাতকরণের নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হলে কর্মসংস্থান যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকরাও লাভবান হবেন।
অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরডিএ উদ্ভাবিত সবুজ প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং একটি লটকন গাছের চারা রোপণ করেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে আরডিএর বিভিন্ন বিভাগের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।