সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। এদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামি আমিনুর রহমানকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার এজাহারে বাদী ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাসায় যাতায়াতের সময় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর পরিবারকে জানান এবং ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি গাজী নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর ব্যক্তিগত ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয়, ওবায়দুর ওই ভিডিও ধারণ করে তা সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে দিয়েছেন।
ওবায়দুরের অভিযোগ, এ বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালান। তাকে ডেকে নিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ওবায়দুর আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
আদালত মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।