দীর্ঘ ২৪ বছরের রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ইংলিশ রেফারি অ্যান্থনি টেইলর। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচ পরিচালনার মধ্য দিয়েই বিদায় বলেছেন তিনি। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ম্যাচে দীর্ঘদিনের চাপ ও কড়া নজরদারির কথা উল্লেখ করে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন টেইলর। তবে ফুটবল বিশ্বে তিনি সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ২০২০ ইউরোতে ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের জীবন রক্ষায় নেওয়া তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম অভিজ্ঞ রেফারি অ্যান্থনি টেইলর আর মাঠে বাঁশি বাজাবেন না। ৪৭ বছর বয়সী এই ইংলিশ রেফারি ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
টেইলর জানান, সর্বোচ্চ পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনা করা তাঁর জন্য গর্বের হলেও বছরের পর বছর তীব্র চাপ ও কঠোর পর্যবেক্ষণের মধ্যে দায়িত্ব পালন সহজ ছিল না। তাই এখন নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় এসেছে।
২০০২ সালে ইংল্যান্ডের নর্দান প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন টেইলর। এরপর দুই দশকেরও বেশি সময়ে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরো এবং বিশ্বকাপসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোতে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকাভুক্ত হন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মোট ৮৩১টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে ১৬৩টি ছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।
তবে অ্যান্থনি টেইলরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের ম্যাচে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন ডেনিশ মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান এরিকসন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দ্রুত অনুধাবন করে টেইলর সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ করেন এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় এরিকসনের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়। সেই মানবিক ও পেশাদার সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান এই ইংলিশ রেফারি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিতর্কও ছিল, সমালোচনাও ছিল। তবে দায়িত্বশীলতা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সংকটময় মুহূর্তে বিচক্ষণতার জন্য অ্যান্থনি টেইলর ফুটবল ইতিহাসে আলাদাভাবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।