বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই দেশে ফিরেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দলের অন্য অনেক ফুটবলার সরাসরি নিজ নিজ ক্লাব বা বাসস্থানে গেলেও মেসি একাই আর্জেন্টিনায় ফিরে নিজ শহর রোসারিওতে পৌঁছেছেন। সেখানে পরিবারের সঙ্গে কয়েকদিন কাটিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হয় আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় একসঙ্গে দেশে ফেরেননি। ১৬ জন আর্জেন্টিনায় ফিরলেও বাকি ১০ জন সরাসরি ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সতীর্থদের একদিন পর আর্জেন্টিনায় ফেরেন মেসি। দেশে ফিরেই তিনি রোসারিওতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। তবে কবে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এমএলএস ক্লাব ইন্টার মিয়ামির অনুশীলনে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
৩৯ বছর বয়সী এই তারকার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, বয়সের কারণে এটি হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। ফলে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালই তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়।
পুরো বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে ছিলেন মেসি। টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি ৮টি গোল করার পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্টও করেন। ফাইনালের পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রৌপ্যপদক গলায় ঝুলিয়ে একটি আবেগঘন ছবি প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে সতীর্থদের লড়াই এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও মেসির প্রতি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। এখন ফুটবল বিশ্বের অপেক্ষা—জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে আবার মাঠে দেখা যাবে, নাকি শিগগিরই তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন।