বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে যখন উচ্ছ্বসিত স্পেন, ঠিক তখনই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ফাইনালের এক উত্তপ্ত মুহূর্ত। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভির মাঠের বাকবিতণ্ডাকে ঘিরে এবার ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার নিয়ে হাজির হন স্প্যানিশ সমর্থকরা। ভিক্টরি প্যারেডে প্রদর্শিত সেই ব্যানার মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর মাদ্রিদের সিবেলেস চত্বরে হাজারো সমর্থকের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়া দলের বাসের সামনে এক সমর্থকের হাতে থাকা একটি ব্যানার সবার নজর কাড়ে।
ব্যানারের এক পাশে ছিল লামিনে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইনের ছবি। তবে অন্য পাশে লেখা ছিল, ‘পারেদেস বনাম গাভি—বক্সিং ম্যাচ চাই’। মূলত ফাইনাল শেষে দুই ফুটবলারের উত্তপ্ত সংঘর্ষকে ব্যঙ্গ করেই এই বার্তা লেখা হয়।
বাসে থাকা লামিনে ইয়ামাল ও ফ্যাবিয়ান রুইজ ব্যানারটি দেখে হাসিতে ফেটে পড়েন। পরে তারা গাভিকেও বিষয়টি দেখিয়ে মজা করেন। সেই মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরই মাঠে দুই দলের কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত, তখন আর্জেন্টিনা শিবিরে দেখা দেয় হতাশা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিকে দ্রুত নিজের খেলোয়াড়দের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে তাকে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ক্ষুব্ধ পারেদেসকে গাভির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেলেও, তাদের মধ্যে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
ঘটনার পর গাভির মন্তব্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও, তিনি ঠিক কী বলেছিলেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি। ভিডিওতে দুই ফুটবলারের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা গেলেও স্পষ্ট অডিও না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করা যায়নি।
তবে মাঠের সেই উত্তেজনাকর মুহূর্ত কয়েকদিনের মধ্যেই পরিণত হয়েছে হাস্যরসে। স্প্যানিশ সমর্থকদের ব্যঙ্গাত্মক ব্যানার এবং ফুটবলারদের প্রাণখোলা প্রতিক্রিয়া এখন বিশ্বকাপ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।