দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ব্যাকটেরিয়া, অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ এবং মানদণ্ডের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ উপাদান পাওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নিয়মিত মান পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে এসব অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এদিকে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ‘বেলিসিমো রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট’ আইসক্রিমে দুধের চর্বিহীন কঠিন অংশ (টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট) নির্ধারিত মানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধনী পণ্যে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, মোরিংগা+মাচা ফেসওয়াশ, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে ডেকো ফুডস লিমিটেডের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ফ্লেভারের সফট ড্রিংক পাউডারে ভিটামিন ‘সি’-এর পরিমাণ নির্ধারিত মানের তুলনায় কম পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই দেশের সব ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাকে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলো দ্রুত বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ভোক্তাদের সতর্ক করে বিএসটিআই মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, কোনো পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের লোগো, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করা উচিত। কোনো পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে জানাতে তিনি আহ্বান জানান।