জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে নতুন করে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপিও পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএস) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপিও পাঠানো হয়েছে।
চিঠিটি দ্বিতীয় দফার কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসাদুজ্জামান খান বাংলাদেশের আইনে বিচারাধীন এবং তিনি পলাতক আসামি। তাকে ফিরিয়ে আনতে যে কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, সেটিই নেওয়া হয়েছে। প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্বার্থে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।
ভারতে অবস্থানরত অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে বা মামলা চলমান রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই সঙ্গে তাদের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে চাঁনখারপুলে ছয়জন হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় কামালকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।