বিশ্বকাপের মহারণ ঘিরে ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে দেশ। সেই উন্মাদনাকে আরও রঙিন করে তুলতে এক রাতের জন্য সিনেমা হলই হয়ে উঠছে ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলা। বড় পর্দা, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম আর স্টেডিয়ামের মতো পরিবেশে প্রিয় দলের লড়াই উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে জড়ো হবেন হাজারো সমর্থক। এক রাতের জন্য যেন সিনেমা হলই হয়ে উঠবে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা।
বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশের কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ। দর্শকদের আগ্রহ বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোও বড় পর্দায় দেখিয়ে আসছিল কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করা যাবে নারায়ণগঞ্জের কাচপুরের চাঁদ মহল সিনেমা হল, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাস, সিলেটের বিজিবি সিনেমা হল, গ্র্যান্ড সিলেট সিনেপ্লেক্স এবং বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সে।
প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফাইনাল ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অনেকেই আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করেছেন। বড় পর্দা, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং অসংখ্য ফুটবলপ্রেমীর সঙ্গে একসঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ দর্শকদের জন্য ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আশা তাদের।
বাংলাদেশে সিনেমা হলে বড় পর্দায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট দেখানোর ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলে প্রদর্শিত হয়েছিল। পরে ২০১৮ ও ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচও দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সরাসরি দেখানো হয়।
প্রেক্ষাগৃহ-সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি সিনেমা হলে উৎসবের আবহ তৈরি করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বড় পর্দায় প্রদর্শনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে মাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিন ইয়ামালের স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ফাইনালকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।