ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নির্মিত মহেশখালীর অনেক আশ্রয়কেন্দ্র এখন নিজেই ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত বহু আশ্রয়কেন্দ্র জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও সেগুলোর একটি অংশ এখনও সরকারি তালিকায় ব্যবহারযোগ্য হিসেবে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দুর্যোগের সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে বর্তমানে ৯৬টি স্কুল-কাম-আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। তবে এর মধ্যে কতগুলো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বা ব্যবহারের অনুপযোগী, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো সংস্কার না হওয়ায় অনেক আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদ, দেয়াল ও বীমে ফাটল দেখা দিয়েছে। এরপরও দুর্যোগের সময় এসব ভবনে আশ্রয় নিতে স্থানীয়দের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অতীতে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও অধিকাংশ ভবনের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে নির্মিত অনেক আশ্রয়কেন্দ্র এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ধলঘাটা ইউনিয়নের মহুরি ঘোনায় সিসিডিবি নির্মিত একটি আশ্রয়কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং রাতের আঁধারে এর দরজা, জানালা ও লোহার গ্রিল পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। একই ধরনের বেহাল অবস্থার কথা উঠে এসেছে কালারমারছড়া পশ্চিম ঝাপুয়া, মাতারবাড়ী উত্তর রাজঘাটসহ আরও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রের ক্ষেত্রে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর নির্মিত অনেক আশ্রয়কেন্দ্র যথাসময়ে সংস্কার না হওয়ায় এখন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। এসব ভবনের অনেকগুলোতে এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে, যা শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ধলঘাটা মহুরি ঘোনা নুরানী মাদ্রাসা বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এ কারণে দুর্যোগের সময় আশ্রয় নিতে সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।
এ বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সৌভ্রাত দাশ বলেন, উপজেলায় ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় কোনো জনপ্রতিনিধি ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রের তালিকা বা তথ্য দেননি। তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, উপজেলার তালিকাভুক্ত ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে কোনোটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবন এখনও ব্যবহারযোগ্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ধলঘাটা, মাতারবাড়ী ও কুতুবজোম ইউনিয়নে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। তাদের মতে, উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় নিরাপদ ও টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।