সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক থেকে বুরুঙ্গা বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, এজিং ভেঙে যাওয়া এবং সড়কের প্রস্থ কমিয়ে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি অর্থ ব্যয়ে সংস্কার করা সড়কের এমন বেহাল দশার দায় নেবে কে?
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কের এজিং ভেঙে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে কাদামাটি জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুটি ছোট যানবাহন পাশাপাশি অতিক্রম করতে গেলে একটিকে সড়কের নিচে নামতে হয়। এতে প্রায়ই গাড়ির চাকা কাদায় দেবে গিয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারের সময় সড়কের আগের তুলনায় প্রস্থ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাটারিচালিত টমটম, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ ছোট যানবাহনের চালকদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
চালক মতিন মিয়া বলেন, আগে সড়কটি অনেক ভালো ছিল। এখন প্রস্থ কমে যাওয়ায় দুটি গাড়ি পাশ নিতে গেলেই বিপদে পড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ি নিচে নেমে খাদে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
একই ধরনের অভিযোগ করেন আরও কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টমটম চালক। তাদের দাবি, নিম্নমানের কাজ ও অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি পুনঃসংস্কার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও যথাযথ তদারকির অভাবে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয় না। বুরুঙ্গা বাজার সড়কের বর্তমান অবস্থাও সেই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা প্রকল্পের নকশা, বাস্তবায়নের মান এবং কাজের তদারকি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা এলজিইডি (LGED) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন, “আমরা সিলেট জেলা এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
এখন স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা—কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সড়কটি নিরাপদ ও টেকসইভাবে পুনঃসংস্কার করা হোক, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।