ভালোবাসার নামে সহিংসতা

দীপু মাহমুদ

মতামত

শিশুকে চড় মারা, বেতের বাড়ি দেওয়া, কান মলা, ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া কিংবা সবার সামনে অপমান করা—বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারে

2026-07-18T10:43:32+00:00
2026-07-18T10:43:32+00:00
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
মতামত
ভালোবাসার নামে সহিংসতা
দীপু মাহমুদ
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
শিশুকে চড় মারা, বেতের বাড়ি দেওয়া, কান মলা, ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া কিংবা সবার সামনে অপমান করা—বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারে এগুলোকে এখনো 'শাসন' বলেই মনে করা হয়। অনেক বাবা-মা বিশ্বাস করেন, সন্তানকে একটু না মারলে সে মানুষ হবে না। দাদা-দাদি বা নানা-নানিরাও প্রায়ই বলেন, "আমাদেরও তো মারধর করেই মানুষ করা হয়েছে।" ফলে শিশুর প্রতি সহিংস আচরণ আমাদের পারিবারিক সংস্কৃতির এমন এক অংশ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে খুব কম মানুষই প্রশ্ন তোলেন। অথচ যে আচরণকে আমরা ভালোবাসার প্রকাশ বা দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব বলে মনে করি, সেটাই একজন শিশুর কাছে ভয়, অপমান ও নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা হয়ে থেকে যায়।

এই বাস্তবতাকে সংখ্যায় প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ জরিপ। এক থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জনই প্রতি মাসে অন্তত একবার পরিবারের ভেতরে সহিংস শাসনের শিকার হয়। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এর অর্থ দাঁড়ায়, বাংলাদেশে সাড়ে চার কোটিরও বেশি শিশু এমন এক পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে শাসনের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ভয়, অপমান কিংবা শারীরিক শাস্তি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সহিংসতা কেবল মারধরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গালাগালি, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, "তুই কিছুই পারবি না", "তুই অপদার্থ"- এ ধরনের বাক্যও শিশুর মানসিক বিকাশে গভীর ক্ষত তৈরি করে।

আমরা সাধারণত শিশু নির্যাতনের কথা ভাবলে সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসা ভয়াবহ ঘটনাগুলোর কথা কল্পনা করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্র অনেক সময় কোনো অপরাধীর আস্তানা নয়; সেটা আমাদের নিজের ঘর। কারণ, এই সহিংসতার অধিকাংশই ঘটে ভালোবাসার দাবি নিয়ে, সন্তানের মঙ্গলের যুক্তি দেখিয়ে। তাই এটা দৃশ্যমান অপরাধের মতো আমাদের বিবেকে ধাক্কা দেয় না। বরং সমাজ এটাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে।

এই স্বাভাবিকীকরণই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ, একজন শিশু পৃথিবীকে প্রথম চিনতে শেখে তার পরিবার থেকে। পরিবার যদি তাকে শেখায় শক্তিশালী মানুষ দুর্বলকে মারতে পারে, অপমান করতে পারে, ভয় দেখিয়ে বাধ্য করতে পারে, তাহলে সেই শিক্ষাই ধীরে ধীরে তার ব্যক্তিত্বের অংশ হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত শারীরিক বা মানসিক শাস্তির শিকার শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, শেখার আগ্রহ কমে যাওয়া, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং ভবিষ্যতে সহিংসতার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি অনেক বেশি। যে শিশু আজ বাবার রাগের সামনে অসহায়, সেই শিশুই বড় হয়ে নিজের সন্তান, জীবনসঙ্গী কিংবা কর্মক্ষেত্রের অধীনস্থ মানুষের সঙ্গে একই আচরণ করার সম্ভাবনা বহন করে। অর্থাৎ সহিংসতা কেবল একটি প্রজন্মকে নয়, প্রজন্মান্তরে সমাজকে সংক্রমিত করে।

কিন্তু এই আলোচনাকে যদি আমরা শুধু বাবা-মায়ের রাগ, ধৈর্য বা ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি, তাহলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো হবে না। কারণ, শিশুদের প্রতি সহিংসতার শিকড় ব্যক্তি নয়, সংস্কৃতির ভেতরে প্রোথিত। আমরা এমন একটি সামাজিক কাঠামোর মধ্যে বাস করি, যেখানে বয়সে বড় হওয়াই অনেক সময় সঠিক হওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে পরিবারে ক্ষমতার বণ্টনও একমুখী। বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেবেন, শিশু মেনে নেবে। বড়রা কথা বলবেন, ছোটরা শুনবে। প্রশ্ন করা অনেক সময় অবাধ্যতা, যুক্তি দেখানো বেয়াদবি, আর নিজের মত প্রকাশ করা শাসনের অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই সংস্কৃতির মধ্যে একজন শিশুর পরিচয় কী? পরিবারের একজন পূর্ণাঙ্গ সদস্য, নাকি পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন একজন মানুষ? প্রশ্নটি অস্বস্তিকর, কিন্তু জরুরি। কারণ, আমরা সন্তানকে ভালোবাসি- এ নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু ভালোবাসা সব সময় মর্যাদা নিশ্চিত করে না। অনেক পরিবারে সন্তানের জন্য সবচেয়ে ভালো স্কুল বেছে নেওয়া হয়, ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা হয়; অথচ সেই শিশুর নিজের পছন্দ, অস্বস্তি, ভয় কিংবা আপত্তির কোনো মূল্য থাকে না। শিশুকে নিয়ে সব সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু শিশুর সঙ্গে খুব কম সিদ্ধান্ত হয়।

এর পেছনে গভীর সাংস্কৃতিক ধারণা কাজ করে। আমরা অনেক সময় শিশুকে একজন স্বাধীন মানুষ হিসেবে নয়, বরং 'গড়ে তোলার প্রকল্প' হিসেবে দেখি। যেন সে একটি অসম্পূর্ণ সত্তা, যার হয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার বড়দের আছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিই শাসনকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে, আর নিয়ন্ত্রণকে সহিংসতায় রূপান্তরিত করে। কারণ, যার মর্যাদা স্বীকৃত নয়, তার ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করাও সহজ হয়ে যায়।

এ কারণেই শিশুদের প্রতি সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শুধু 'মারধর বন্ধ করুন' বললে হবে না। তার আগে সমাজকে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে- শিশু কে? সে কি পরিবারের সম্পদ, নাকি পরিবারের একজন মানুষ? তার কি কেবল দায়িত্ব আছে, নাকি অধিকারও আছে? সে কি শুধু বড়দের নির্দেশ পালন করবে, নাকি নিজের বয়স ও বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজের মতও প্রকাশ করবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আন্তর্জাতিক আইন অনেক আগেই দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ শিশুদের বেঁচে থাকা, সুরক্ষা ও বিকাশের পাশাপাশি একটি চতুর্থ ভিত্তির কথা বলেছে- অংশগ্রহণ। অর্থাৎ একজন শিশুর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তার বয়স ও পরিপক্বতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এই অধিকারকে অনেক সময় সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ এখানেই লুকিয়ে আছে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।

যে পরিবারে একজন শিশুর কথা শোনা হয়, সেখানে সেই শিশুকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন কমে যায়। কারণ, শোনা মানে সব দাবি মেনে নেওয়া নয়; শোনা মানে তাকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। যে শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে, ভুলের ব্যাখ্যা দিতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে, সে ধীরে ধীরে আত্মনিয়ন্ত্রণও শেখে। বিপরীতে যে পরিবারে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ধমক, প্রতিটি ভুলের উত্তর অপমান, আর প্রতিটি অমতের উত্তর শাস্তি, সেখানে সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে ওঠে ভয়। ভয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আনুগত্য তৈরি করা যায়, কিন্তু বিশ্বাস তৈরি করা যায় না।

আমাদের সমাজে শিশুদের সম্পর্কে প্রচলিত ভাষাও এই মানসিকতার পরিচয় বহন করে। আমরা বলি, "ছোট মানুষ, ওর আবার মতামত কী?", "বড়দের কথায় কথা বলবে না", "এখন চুপ করে থাক, বড় হলে বুঝবে।" এই কথাগুলো আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও এগুলো একজন শিশুকে শেখায় যে তার কণ্ঠের মূল্য কম। অথচ একজন মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ গড়ে ওঠে তখনই, যখন সে অনুভব করে তার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হচ্ছে। পরিবারে সেই অভিজ্ঞতা না পেলে সমাজেও সে নিজের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

আমরা প্রায়ই শিশুদের দেশের ভবিষ্যৎ বলে অভিহিত করি। কথাটি ভুল নয়, কিন্তু এই ভাষার একটি সীমাবদ্ধতা আছে। এতে শিশুদের বর্তমান যেন আড়ালে চলে যায়। যেন তাদের মর্যাদা, অধিকার ও অংশগ্রহণের গুরুত্ব কেবল ভবিষ্যতের জন্য। বাস্তবে একজন শিশু ভবিষ্যতের অপেক্ষায় থাকা কোনো মানুষ নয়; সে আজকের মানুষ। তার সম্মান আজ নিশ্চিত করতে হবে, তার নিরাপত্তা আজ নিশ্চিত করতে হবে, তার মতামত আজ শুনতে হবে। ভবিষ্যতের একজন ভালো নাগরিক গড়ে ওঠে বর্তমানের একজন সম্মানিত শিশু থেকে।

এই কারণে শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধকে শুধু আইনশৃঙ্খলা বা অপরাধ দমনের বিষয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটা মূলত একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের প্রশ্ন। যেমন একসময় পরিবারে নারীর প্রতি সহিংস আচরণকে অনেকেই ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে করতেন, পরে সমাজ বুঝেছে সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। সন্তানের গায়ে হাত তোলা কিংবা তাকে অপমান করা কোনো পারিবারিক অধিকার নয়; এটা একজন মানুষের মর্যাদার প্রশ্ন।

এই পরিবর্তন শুরু হবে পরিবার থেকেই। সন্তানকে শাসন করা অভিভাবকের দায়িত্ব, কিন্তু শাসনের অর্থ কখনোই সহিংসতা নয়। নিয়ম শেখানো দরকার, সীমা নির্ধারণ করাও দরকার, ভুলের সংশোধনও দরকার। কিন্তু সেগুলোর কোনোটির জন্য অপমান, ভয় বা শারীরিক শাস্তি অপরিহার্য নয়। বরং গবেষণা বলছে, যেসব পরিবারে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব চর্চা করা হয়, সেখানে শিশুদের আচরণগত সমস্যা কমে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পারিবারিক সম্পর্কও আরও দৃঢ় হয়।

রাষ্ট্রেরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইতিবাচক অভিভাবকত্বকে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সভা, গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সব জায়গায় এমন বার্তা পৌঁছাতে হবে যে শিশুর প্রতি সম্মান দুর্বলতার লক্ষণ নয়; সেটাই দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বের ভিত্তি। একই সঙ্গে শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং শিশু নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।

তবে সব নীতির শেষ ঠিকানা একটি পরিবার। প্রতিদিনের আচরণেই নির্ধারিত হয় একজন শিশু কেমন মানুষ হয়ে উঠবে। সে কি এমন একজন মানুষ হবে, যে মতের অমিলকে সহিংসতা দিয়ে মোকাবিলা করবে, নাকি সংলাপ দিয়ে? সে কি শক্তিকে আধিপত্যের মাধ্যম হিসেবে দেখবে, নাকি দায়িত্ব হিসেবে? এই শিক্ষা কোনো পাঠ্যবই থেকে আসে না; আসে ঘরের ভেতরের সম্পর্ক থেকে।

তাই শিশুদের প্রতি সহিংসতা কমানোর প্রথম শর্ত হলো শিশুদের মর্যাদা স্বীকার করা। শিশু কোনো আসবাব নয়, যে তাকে সুবিধামতো সরিয়ে রাখা যাবে; শিশু কোনো প্রকল্পও নয়, যাকে বড়দের ইচ্ছামতো গড়ে তোলা যাবে। একজন শিশু একজন মানুষ। তার অনুভূতি আছে, মতামত আছে, অপমানবোধ আছে, সম্মানবোধও আছে। এই সহজ সত্যটি আমরা যত দ্রুত গ্রহণ করব, তত দ্রুত বদলাবে আমাদের পারিবারিক সংস্কৃতি।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা পরিবার। সেই পরিবারকে যদি ভয়ের নয়, বিশ্বাসের জায়গায় পরিণত করা যায়, তাহলে ইউনিসেফের পরিসংখ্যানও একদিন বদলাবে। আর সেই পরিবর্তনের শুরু হবে কোনো বড় কর্মসূচি দিয়ে নয়; শুরু হবে তখনই, যখন একজন বাবা কিংবা একজন মা রাগের মুহূর্তে হাত তোলার আগে একবার ভাববেন- আমি কি একজন মানুষকে শাসন করছি, নাকি একজন মানুষের মর্যাদায় আঘাত করছি!

লেখক: কথাসাহিত্যিক


Loading...
Loading...

মতামত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: