বহুল প্রতীক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আর মাত্র দুই দিন বাকি। আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউইয়র্ক–নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভেন্যুটি। কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় ফাইনাল আয়োজন নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দাবানলের ধোঁয়া বাতাসের সঙ্গে ভেসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামসহ আশপাশের এলাকায় বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পাঠাগার, থানা ও ফায়ার স্টেশনে কেএন৯৫ মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের ভাষ্য, এই মাত্রার ধোঁয়ার মধ্যে একদিন কাটানো প্রায় ১০টি সিগারেট ধূমপানের সমান ক্ষতিকর হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ছাদহীন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়েই কি বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে? তবে আপাতত স্বস্তির খবর দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শিগগিরই নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ধোঁয়ার ঘনত্ব কমে বাতাসের মানের উন্নতি হতে পারে। বাংলাদেশ সময় রোববার রাতে ফাইনাল শুরুর আগেই পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ কারণে এখন পর্যন্ত ম্যাচ স্থগিত কিংবা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেয়নি ফিফা।
ফাইনাল দেখতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত থাকার কথা। পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করতে আরও প্রায় ৫০ হাজার সমর্থক জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দর্শকদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়ে গেছে।
আকুওয়েদারের প্রধান আবহাওয়াবিদ অ্যালেক্স ডা সিলভা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, রোববার সকাল নাগাদ ধোঁয়ার বেশিরভাগই সরে যাওয়ার কথা। তখন বায়ুর মানও অনেকটাই উন্নত হবে।
তবে ধোঁয়া কমলেও ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ভিন গুপ্তা বলেন, তাপপ্রবাহ ও বায়ুদূষণ একসঙ্গে থাকলে খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ম্যাচে আরও বেশি হাইড্রেশন বিরতি রাখা উচিত। একই সঙ্গে বয়স্ক, হৃদরোগী ও শ্বাসকষ্টে ভোগা দর্শকদের স্টেডিয়ামে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিস্থিতির কারণে বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা সুস্থ মানুষের জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিয়মিত সমস্যা হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দাবানলের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।