ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ৪৫২৭.৭৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী ও রাজস্ব কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে। রাজস্ব ও উন্নয়ন দুই খাত মিলিয়ে এ বাবদ মোট বরাদ্দ ৫১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১১ শতাংশ। আর মশক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ২০৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ।
এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের ৩ হাজার ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নে। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় এবার ঢাকা উত্তর সিটির হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ (প্রারম্ভিক স্থিতি) কমেছে। গত অর্থবছরে এই স্থিতি ছিল ৮৫০ কোটি টাকা, চলতি প্রস্তাবে তা নেমে এসেছে ৬৬০ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় অর্থাৎ প্রায় ১৯০ কোটি টাকা কম।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রায় ৬৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ হাজার ১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নে। এ খাতে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং উন্নয়ন বাজেটের ৪৫ শতাংশেরও বেশি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের হোল্ডিং, পরিচ্ছন্নতা, লাইটিং ও স্বাস্থ্য কর খাত থেকে মোট রাজস্ব আয়ের ৪৭ শতাংশ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ১ হাজার ২১০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর কর খাত থেকে ৭৫০ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ট্রেড লাইসেন্স, সড়ক খনন ফি, বিজ্ঞাপন কর, গরুরহাটসহ অন্যান্য খাত এবং সরকারি ও বৈদেশিক অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি চার মাস আগে এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় বাজের স্বল্পতা কাটিয়ে আমরা স্বল্প সংখ্যক বাজেট নিয়েও নগরবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার, জলবদ্ধতা দূরীকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারসহ ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ, সফলভাবে হামের টিকা প্রদান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণসহ আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সফলতা অর্জন,সম্প্রতি অতি বৃষ্টির ফলে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত সরজমিনে পরিদর্শনসহ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, বাসা বাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি , ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন খালগুলোর দখল মুক্ত করে খাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জোরদার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ক্লিন ঢাকা গ্রীন ঢাকা বাস্তবায়নে বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন শিক্ষা ও খেলাধুলা সামগ্রী প্রদানসহ নগরবাসীর সেবামূলক কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি মাত্র।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ক্লিন ঢাকা গ্রীন ঢাকা এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থব বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বাজেটকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। তিনি জানান, এবারের বাজেটে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণসহ মশাবাহিত বিভিন্ন বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ করা, নগরের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, বিভিন্ন এলাকার ভেঙে পড়ার রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, ম্যানহোল ব্যবস্থা আধুনিককরণ, বাসা বাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকরণ, বর্জ্য হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, রোড লাইট ও রোড সেফটির জন্য আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট ও বাজার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, হকারদের জন্য একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ, বস্তিবাসী উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, ভবিষ্যতে কোরবানির হাট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল সংস্কার করে যাত্রী কল্যাণমুখী করা, বিভিন্ন খাল দখলমুক্ত পরে সংস্কারের মাধ্যমে খালের প্রবাহ ধরে রাখা, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ অভিযান জোরদার করুনসহ নগরবাসীর সেবায় একটি উন্নত পরিকল্পিত ও আধুনিক বসবাসযোগ্য নগরী গড়ার পরিকল্পনায় একটি বাস্তবমুখী বাজেট ঘোষণা করছি।