টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ভালো মানের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জেলার সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে।
বাজারে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগেও ৬০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া হাইব্রিড শসার দাম এখন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকায়। বেগুন, করলা, ফুলকপি ও বরবটির কেজি ১০০-১২০ টাকা। ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দামও বেড়ে ৮০-১০০ টাকায় উঠেছে। লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। কয়েক দিন আগেও ১২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজিতে। ভালো মানের কাঁচা মরিচ কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পেঁপে ও টমেটোর দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। পেঁপে কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং আমদানি বেড়ে যাওয়ায় টমেটোর দাম কমে ১৫০ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ ৪০ টাকা ও আলু ২৫ টাকা কেজি দরে প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, আগে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১০০ কেজি সবজি আসত, এখন সেখানে আসছে মাত্র ৬০ কেজি। সরবরাহ কম থাকায় পাইকারিতেই বেশি দাম দিতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
হজক্যাম্প বাজারের আরেক বিক্রেতার ভাষ্য, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
এদিকে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে কিছুটা দাম বাড়া স্বাভাবিক হলেও বর্তমান বৃদ্ধি অস্বাভাবিক। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকায় পৌঁছানো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।