পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং পরীক্ষা শেষে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে বাড়তি সতর্কতা। বুধবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সপ্তম দিনে অনেক অভিভাবক সন্তানদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাইরে অপেক্ষা করেন।
রাজধানীর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় অভিভাবকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কেউ কেন্দ্রের ফটকের সামনে, কেউ গাছের ছায়ায়, আবার কেউ ফুটপাতে অপেক্ষা করছিলেন। পরীক্ষা শেষে সন্তানদের একা না পাঠিয়ে সঙ্গে করেই বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা জানান তারা।
অভিভাবকদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় তারা উদ্বিগ্ন। তাই সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবক নাসরিন আক্তার বলেন, গত কয়েক দিনের পরিস্থিতি দেখে ছেলেমেয়েদের একা পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। আজ পরীক্ষা শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই বাসায় ফিরব।
আরেক অভিভাবক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে হোক, সেটাই চাই। তবে পরীক্ষা শেষে কোনো কর্মসূচি থাকলে সন্তান যেন কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে, সে জন্যই কেন্দ্রে অপেক্ষা করছি।
অভিভাবক আবদুল কাদের জানান, সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় কেন্দ্রে এলেও আজ পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই তিনি কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
বুধবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষায় আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র ও যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পরীক্ষা শেষে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।
তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।