বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, ইতিহাস আর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এবার সেই দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে সেমিফাইনালে। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, এই দ্বৈরথে সামান্য এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।
এখন পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৬টিতে, আর্জেন্টিনা মাত্র ২টিতে। বাকি ৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে ড্র হওয়া ম্যাচগুলোর একটি ছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো, যেখানে টাইব্রেকারে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সর্বশেষ ৯০ মিনিটের জয় আসে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’খ্যাত সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।
দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে মাইকেল ওভেনের জোড়া গোল এবং ওয়েইন রুনির একটি গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপে এটি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ মুখোমুখি লড়াই। জার্মানির পর বিশ্বকাপে আর কোনো দলের বিপক্ষে এতবার খেলেনি আর্জেন্টিনা। আগের পাঁচ বিশ্বকাপ সাক্ষাতে আর্জেন্টিনার রেকর্ড—১ জয়, ২ ড্র ও ২ হার।
তবে ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও বর্তমানের হিসাব বলছে, ম্যাচটি হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। অপটা সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয়ের সম্ভাবনায় সামান্য এগিয়ে রয়েছে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। তাদের জয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৩ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ। আর ম্যাচ ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৩০.৭ শতাংশ।
ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনার দিক থেকেও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। অপটার পূর্বাভাস বলছে, ইংল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৫২.৩ শতাংশ, আর আর্জেন্টিনার ৪৭.৭ শতাংশ। অর্থাৎ পরিসংখ্যান সামান্য এগিয়ে রাখলেও, এই সেমিফাইনালে যে যেকোনো ফলই সম্ভব—সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে সুপারকম্পিউটারের বিশ্লেষণ।