বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি ঘিরে দুই দলের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন আলোচনায়, তেমনি রয়েছে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের বাড়তি উত্তেজনা। তবে ইংলিশ ডিফেন্ডার মার্ক গেহির মতে, এই ম্যাচে চাপ ইংল্যান্ডের নয়, বরং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ওপরই বেশি।
একদিকে ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে পারেনি ইংল্যান্ড, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা খেলেছে সর্বশেষ আসরের ফাইনালে। তাই গেহির বিশ্বাস, শিরোপা ধরে রাখার দায়িত্ব থাকায় চাপটা আর্জেন্টিনার কাঁধেই বেশি।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ উত্তপ্ত। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আজও ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। আবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ডও ইংলিশ সমর্থকদের কাছে তেতো স্মৃতি হয়ে আছে।
মাঠের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কে রয়েছে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি এখনো দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে এখনো আপত্তি জানিয়ে আসছে আর্জেন্টিনা।
তবে ইংল্যান্ডের আরেক ডিফেন্ডার এজরি কনসা জানিয়েছেন, মাঠের বাইরের এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে চায় না দল। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিতে হবে। অতীতের ইতিহাস ভুলে গিয়ে মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।’
চাপের প্রসঙ্গে মার্ক গেহি বলেন, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। চাপ কিসের? দায়িত্বটা তাদের। তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শিরোপা ধরে রাখতে তাদেরই খেলতে হবে। আমাদের ওপর মোটেও কোনো চাপ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, সবাই রোমাঞ্চ অনুভব করছে। এটি বড় একটি উপলক্ষ। বড় বড় খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলার সুযোগটি সবাই উপভোগ করতে মুখিয়ে আছে।’
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গেহি ও কনসা—দুজনেরই শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে লিওনেল মেসিকে থামানোর বড় দায়িত্বও তাদের কাঁধেই থাকবে।
তবে গেহির মতে, আর্জেন্টিনা শুধু মেসিনির্ভর দল নয়। তিনি বলেন, ‘মেসি দুর্দান্ত ফুটবলার, সম্ভবত সর্বকালের অন্যতম সেরা। তাকে আটকাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে তাদের দলে আরও অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা যেন নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি এবং নিজেদের খেলায় শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে পারি।’