হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় নির্মাণাধীন ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ প্রকল্পের নির্মাণকাজে আবারও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দীর্ঘসূত্রতা এবং যথাযথ তদারকির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিতভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু, ইট ও মার্বেল টাইলস ব্যবহার করা হচ্ছে। জল ছাদ নিয়ম অনুযায়ী না করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূত কাজ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ভবিষ্যতে স্থাপনাটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মাণ কাজ নিম্নমানের হওয়ায় এক দফা মার্বেল টাইলস ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুনরায় যে টাইলস বসানো হয়েছে, সেটিও মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ব্লক ইটের পরিবর্তে দেশীয় ইট ব্যবহার এবং দেয়ালের প্লাস্টারে পলিমাটি মিশ্রিত বালু ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চলতি বছরের ১৫ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল গণপূর্ত অধিদপ্তরে পৃথক দুটি লিখিত পত্র পাঠিয়ে নির্মাণকাজের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ‘টিবিইএল অ্যান্ড আইসি এমএসএল জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা বলেন, ‘তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ বছর পেরিয়ে গেছে। কয়েকবার সময় বাড়ানো হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর।’
আরেক বাসিন্দা সহিবুর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার নির্মাণকাজে এমন অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
নির্মাণকাজের সাইড ইন্জিনিয়ারন বলেন, ‘কাজ কখন শেষ হবে, তা মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করছে। তারা যেভাবে নির্দেশনা দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করি।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি। গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কাজ তদারকি করছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠছে যে, তার নির্মাণ কাজে বিভিন্ন ভারী মালামাল বহন করার কারণে উপজেলা পরিষদের রাস্তাটি ধেবে যাওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওই রাস্তাটি রিফেয়ারিং করে দেয়ার অঙ্গিকার করলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তা করে দিচ্ছেন না মর্মেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর সাথে মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোটি টাকার এ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।