শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে থাকা আর্জেন্টিনা যেমন অভিজ্ঞতা ও তারকা খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করছে, তেমনি ইংল্যান্ডও নিজেদের শক্তি ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে মরিয়া।
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আটলান্টায় আজ রাত ১টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। মেসিকে আটকানোর কৌশলই হতে পারে ইংল্যান্ডের অস্ত্র। মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা করা সহজ হলেও মাঠে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তার গতি কমে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
আর্জেন্টিনার পুরো আক্রমণভাগের পরিকল্পনাই অনেকটা তৈরি হয় মেসিকে সেরা অবস্থানে বল দেওয়ার জন্য। তবে সুইজারল্যান্ড দেখিয়েছে, মাঝমাঠের জায়গা বন্ধ করে দিলে মেসির প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব। ইংল্যান্ডও সেই কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। দুই দলের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে কীভাবে সামলাবে ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড মেসির জন্য মাঝমাঠের জায়গা সংকুচিত করে দিয়েছিল। ফলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। যদিও কর্নার থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে নিজের প্রভাব ঠিকই রেখেছিলেন তিনি।
এই ম্যাচের আগে ঘুরে ফিরে আসছে চার দশকের বেশি পুরনো ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ। গত কয়েক দশকের মাঠের নানা নাটকীয় ঘটনা নিয়ে আলোচনা তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে সমর্থকদের কেবল ফুটবলেই মনোযোগ দিতে বলেছে আর্জেন্টিনার প্রবীণ যোদ্ধাদের একটি সংগঠন। দক্ষিণ আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সার্বভৌমত্বের দাবি প্রতিষ্ঠার মঞ্চ হিসেবে ম্যাচটিকে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টাইনদের কাছে মালভিনাস নামে পরিচিত। ১৯৮২ সালে এখানে সংঘাতে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন সামরিক সদস্য, ২৫৫ জন ব্রিটিশ ও তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন। সেই সময় থেকে আজও দুই দেশের মধ্যে ওই প্রসঙ্গ খুব সংবেদনশীল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ ঐতিহাসিক এক দ্বৈরথ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ উপহার দিয়েছে দুই দল। যার মধ্যে অন্যতম, ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি হয়েছিল। আরেকটি হলো, ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল, যেখানে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্টের একমাত্র গোল ব্যবধান গড়ে দেয়। আর্জেন্টিনার দাবি ওই গোল ছিল অফসাইড, তাদের কাছে ইংল্যান্ডের ওই জয় শতাব্দীর সেরা ডাকাতি।
এপ্রিল টু ওয়ার ভেটেরানস ফেডারেশন নামের সংস্থাটি বিবৃতিতে বলেছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসছে ম্যাচটি আর্জেন্টাইনদের জন্য কোনো সশস্ত্র প্রতিশোধ কিংবা ইতিহাসের ক্ষতিপূরণ নয়। একই সঙ্গে তারা কোনো ধরনের ঘৃণা বা উগ্র জাতীয়তাবাদ না ছড়িয়ে, যুদ্ধে নিহত আর্জেন্টাইন সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমর্থক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয় আন্তর্জাতিক ফোরামে কূটনীতির মাধ্যমে, ঐতিহাসিক সত্যের ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় সংবিধানে সুরক্ষিত শান্তিপূর্ণ ও আপসহীন দাবির মধ্য দিয়ে। খেলাধুলার আবেগ আর জাতীয় স্বার্থের মধ্যে একটি স্পষ্ট ও অনড় সীমারেখা টানা জরুরি বলে আমরা মনে করি। বল মাঠে গড়াবে, আমাদের জার্সির গর্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে, তবে (যুদ্ধের) স্মৃতিও অক্ষুণ্ন থাকবে। ফকল্যান্ডের উপর সার্বভৌমত্ব দাবি করা যুক্তরাজ্য এখনও সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে কূটনৈতিক মাধ্যম ও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট চলার সময়েও এই প্রসঙ্গ এসেছে। আর্জেন্টিনার জয়ের পর দর্শকরা গানে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ, মারাদোনা ও আরেকটি বিশ্বকাপ দিয়ে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার কথা বলেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন। কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, আটলান্টায় দুই দলের লড়াইয়ে ফুটবল ছাড়া অন্য কোনো বিষয় জড়িত থাকবে না। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও একই সুরে কথা বলেছেন। ফাইনালে ওঠার লড়াইকে ‘ফুটবলের স্রেফ আরেকটি ম্যাচ’ হিসেবে দেখছেন তারা।
এটা দুই গর্বিত জাতির লড়াই। মাঠে ফুটবলই কথা বলবে। এদিকে ইংল্যান্ড দলে বিভাজনের খবর যুগে যুগে নানা সময়েই বেশ আলোচিত হয়েছে। এবারও বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিছুটা ঝড় উঠলেও পরে তা থেমে যায়। কিন্তু কোয়ার্টার-ফাইনালের পর কোচ টমাস টুখেল ও জয়ের নায়ক জুড বেলিংহ্যামের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ঘিরে মনোমালিন্যের গুঞ্জন ডালপালা মেলতে থাকে। সেমি-ফাইনালের আগে অবশ্য সেই বিভাজনের খবর উড়িয়ে দিয়ে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের দাবি, দল দারুণ একতাবদ্ধ।
নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে পিছিয়ে পড়ার পর বেলিংহ্যামের দুই গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সের প্রশংসার পাশাপাশি কিছূ সমালোচনাও করেন টুখেল। দল কিছুটা অগোছালো ছিল এবং জয়টা ভাগ্যের ছোঁয়ায় এসেছে, এমন মন্তব্য করেন তিনি।
কোচের মন্তব্যের প্রসঙ্গে বেলিংহ্যামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যে যা-ই বলুক, এটা একটা কঠিন দায়িত্ব, তাই যে ছেলেররা মাঠে কঠিন লড়াইটা করেছেন, তাদের প্রতি আমার সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতা রইল। বিশ্বকাপের আগেও টুখেলের সঙ্গে বেলিংহ্যামের কিছুটা দূরত্বের খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল। এবারের মন্তব্যের ঘটনায় টানাপোড়েনের গুঞ্জন শুরু হয় নতুন করে।
তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে কেইন তীব্র ভাষায় এসবের জবাব দিলেন। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জোর গলায় বলেন, একতাই তার দলের মূল চালিকাশক্তি। এরকম একটি ম্যাচ খেলার পর এবং শেষ বাঁশি বাজার মিনিট পাঁচেক পর, তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোচ আদতে কী বলেছেন, তা সে নিজেও ঠিক জানত না, তখন আপনি জুডের কাছে কি শুনতে চাইবেন? মাত্রই কঠিন এক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে এসেছি আমরা। মাঠের পরিস্থিতি সত্যিই খুব কঠিন ছিল। ১৯৮৬ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নীল জার্সিতে নামতে চায় আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে শুধু মাঠের প্রস্তুতিতেই থেমে নেই আর্জেন্টিনা। কৌশল ও অনুশীলনের পাশাপাশি মানসিক দিক থেকেও এগিয়ে থাকতে চাইছে লিওনেল মেসির দল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নিজেদের নেভি ব্লু অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামার জন্য ফিফার কাছে অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে এর কারণ শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের সাদা জার্সির সঙ্গে রঙের পার্থক্য তৈরি করা নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক স্মৃতি।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই নীল জার্সি পরেই খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। মারাদোনার জোড়া গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
২০২৬ সালে একই রঙের জার্সি পরে মাঠে নামার মাধ্যমে সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি ও আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগাতে চাইছে আর্জেন্টিনা। দলের আশা, ১৯৮৬ সালের সেই সাফল্যের মানসিক প্রভাব ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
বিশ্বকাপে এরপর আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দেখা হয়েছে আরও দুবার। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দুই দল ২-২ গোলে ড্র করার পর পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেও তারা নেভি ব্লু বিকল্প জার্সি পরেছিল।
অন্যদিকে, ২০০২ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে জয় পায়। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনা খেলেছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা জার্সিতে। ফিফা ইতিমধ্যেই আটলান্টায় হতে চলা সেমিফাইনালের জার্সি নির্ধারণ করে দিয়েছে।
সেখানে ইংল্যান্ড তাদের চিরাচরিত সাদা হোম জার্সি পরবে, আর আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে নেভি ব্লু ও কালো রঙের অ্যাওয়ে জার্সিতে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ছম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই তাদের মূল জার্সি পরে খেলেছে এবং সব ম্যাচেই জয় পেয়েছে। একমাত্র বিকল্প জার্সি তারা ব্যবহার করেছে জর্দানের বিরুদ্ধে, সেই ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ফিফার প্রতিনিধিদের সমন্বয় বৈঠকের পর জার্সি-সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
এই ঘোষণার পরই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে উঠেছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালের স্মৃতি। সেবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি গায়েই মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। আর সেই ম্যাচেই দিয়েগো ম্যারাডোনা উপহার দিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের দুই বিখ্যাত মুহূর্ত- ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। অন্যদিকে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই সাদা জার্সি পরে খেলেছে। শুধু গ্রুপপর্বে পানামার বিপক্ষে লাল জার্সি ব্যবহার করেছিল তারা। সেই ম্যাচে ২-০ গোলের জয় পেয়েছিল ইংলিশরা।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটি হবে আর্জেন্টিনার চতুর্থবার নীল জার্সি পরে মাঠে নামা। এর আগে ১৯৬২, ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে একই রঙের জার্সিতে মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। তবে ১৯৬৬ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপে আকাশি-সাদা হোম জার্সিই ব্যবহার করেছিল আর্জেন্টিনা।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নকআউট পর্বে ব্র্যাকেটের উপরের দিকে থাকা দলকে ‘টিম এ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ‘টিম এ’ হওয়ায় তাদের হোম জার্সি ব্যবহারের অগ্রাধিকার ছিল। তাই দু’দলের জার্সির মাঝে স্পষ্ট রঙের পার্থক্য নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনাকে বিকল্প নীল জার্সি পরার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়, ম্যাচ কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য মাঠে দু’দলকে আলাদা করে শনাক্ত করাও সহজ হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার ডান দিকের রক্ষণ বড় সমস্যায় পড়েছিল।
সুইজারল্যান্ডের দ্রুতগতির আক্রমণভাগ বারবার সেই জায়গা দিয়ে চাপ তৈরি করেছে। ডান প্রান্তের রক্ষণভাগে খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে থাকা দ্রুতগতির খেলোয়াড়রা এই দুর্বলতা কাজে লাগাতে চাইবে। বিশেষ করে ডান-বাম দুই প্রান্ত দিয়ে গতি বাড়িয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ তৈরি করার পরিকল্পনা থাকতে পারে ইংল্যান্ডের। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে রয়েছে দুর্দান্ত পাসিং ও আক্রমণ তৈরি করার ক্ষমতা। তবে শারীরিক সক্ষমতা ও গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারলে আর্জেন্টিনাকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে জুড বেলিংহ্যামের অসাধারণ দৌড় ও লড়াই করার মানসিকতা বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। ডেকলান রাইসও সুযোগ পেলে নিজের শক্তিশালী উপস্থিতি দিয়ে আর্জেন্টিনার পরিকল্পনা ভেঙে দিতে পারেন।
আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে সবসময় আধিপত্য বিস্তার না করলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করতে পারে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্ব পর্যন্ত তারা একাধিকবার কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জুলিয়ান আলভারেজ, লাওতারো মার্টিনেজ ও মেসির মতো খেলোয়াড়রা যেকোনো সময় ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় ভয় এখানেই—আর্জেন্টিনা দীর্ঘ সময় চাপের মধ্যে থাকলেও একটি মুহূর্তেই ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্বীকার করেছে, প্রতিপক্ষের শারীরিক শক্তির কারণে তাদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। ইংল্যান্ডও শক্তি, গতি ও সহনশীলতার জন্য পরিচিত। মাঝমাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি হ্যারি কেইন ও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দ্বৈরথও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সেটপিস, বল দখল এবং শারীরিক সংঘর্ষ—সব ক্ষেত্রেই দুই দলকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছোট ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মেসির জাদু ও দলের অভিজ্ঞতা যেমন আর্জেন্টিনার শক্তি, তেমনি ইংল্যান্ডের গতি ও শারীরিক সামর্থ্য হতে পারে বড় হুমকি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই লড়াই শুধু দুই দলের নয়, বরং দুই ভিন্ন ধরনের ফুটবল দর্শনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হতে যাচ্ছে।