ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা ফ্রান্সকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। ডালাস স্টেডিয়ামে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলের দাপুটে

2026-07-15T03:04:55+00:00
2026-07-15T03:27:08+00:00
  বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬,
৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
 
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
খেলা
ফ্রান্সকে বিদায় করে ফাইনালে স্পেন
ক্রীড়া ডেস্ক
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৪ এএম  আপডেট: ১৫.০৭.২০২৬ ৩:২৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠা ফ্রান্সকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। ডালাস স্টেডিয়ামে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১০ সালের পর আবারও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে স্পেন।

সেমিফাইনালের আগে ৬ ম্যাচ খেলে ১৬ গোল দেওয়া ফ্রান্স এদিন শুরু থেকে অস্বস্তিতে ছিল। চলতি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পর্যন্ত ক্লিনশিট ধরে রাখা স্পেন তাদের বক্সে ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফ্রান্সকে বক্সের মধ্যে সুবিধা করতে দেয়নি তাদের রক্ষণভাগ ও গোলকিপার। বিশেষ করে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া দারুণ নৈপুণ্য দেখান। কিলিয়ান এমবাপে কয়েকবার হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও তার কারণে শট নিতেই পারেননি। আর গোলকিপার উনাই সিমন ছিল অবিশ্বাস্য। তিনটি সেভ করার পাশাপাশি বক্সের বাইরে গিয়েও ফ্রান্সের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি।

নবম মিনিটে ওলমো ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি কিক আদায় করেন। বায়েনা কিক নেন। কিন্তু রক্ষণদেয়ালে আঘাত করে বল। ফ্রান্স দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ১৪ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এমবাপে দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন। তার সামনে কেবল পোরো ও গোলকিপার ছিলেন। কুবারসি ও লাপোর্তে তাদের পজিশনে থেকে এমবাপেকে রুখে দেন।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগে এগিয়ে যায় স্পেন। লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলেন দিনিয়ে। ডিবক্সের মধ্যে স্পেন তারকাকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পায় লা রোজারা। তারপর মিকেল ওয়ারসাবালের কিকে এগিয়ে গেল তারা। ফ্রান্স ২৩তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে।

২০ মিনিটে স্পেন পেনাল্টি পায়। কুকুরেয়ার বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস দিনিয়ে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই লেফটব্যাক ব্যর্থ হন। তার সামনে ছিল ইয়ামাল। তাকে ফাউল করে বসেন। রেফারি দ্রুত পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

ওয়ারসাবাল নেন পেনাল্টি কিক। রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকার শট ডানকোণা দিয়ে নেন। ফরাসি কিপার মাগনিয়ঁ ঠিক দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার নাগালে ছিল না। জালে জড়ায় বল। পিছিয়ে পড়ার পর দলের সেন্টার ব্যাক সালিবা ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে তাদের বিপদ আরও বাড়ে। ২৯তম মিনিটে খেলোয়াড় বদল করতে বাধ্য হন দিদিয়ের দেশম। ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া মাঠে নামেন।

৩৬ মিনিটে ফ্রান্সকে আরেকবার কাঁপিয়ে দেয় স্পেন। দূরপাল্লার একটি ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন বায়েনা। মাইগনান তাকে রুখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিতেই অফসাইডের বাঁশি বাজে। পরের মিনিটে স্পেনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর স্পেন আরেকটি সুযোগ তৈরি করে। ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস করেন ইয়ামাল। তারপর ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামালের পাসে বল পান রুইজ। কিন্তু তার শট গোলবার ঘেঁষে যায়।

৪৩ মিনিটে ফ্রান্স চমৎকার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপেকে বল পায়েই নিতে দেননি সিমন। স্প্যানিশ কিপার দ্রুত বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেন। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।

এক ঘণ্টা না যেতেই দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল জড়ায় স্পেন। ডালাসে সেমিফাইনালে ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

দানি ওলমো কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেন এবং ওইয়ারজাবালকে বল পাস দিয়ে গোল দেওয়ার মতো পজিশনে পাঠাতে ব্যর্থ হন। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে ফিরে আসে, যিনি ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। তিন মিনিট পর একক চেষ্টায় ইয়ামাল তৃতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল ঠেলে দেন। কিন্তু গোলটি উদযাপনের আগেই বাতিল হয় লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ালে। শেষ ডিফেন্ডার দিনিয়ের চেয়ে কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিলেন বার্সা তারকা।

৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপের শট কুকুরেয়া ব্লক করেন। ৮০ মিনিটে আরেকটি গোলের বেশ কাছে ছিল স্পেন। ওয়ারসাবালের বদলি নামার কয়েক মিনিট পরই ফেরান তোরেসের একটি হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স মুহুর্মুহু আক্রমণ চালান। কিন্তু গোলকিপার সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বাধায় সফল হয়নি তারা। ৮২ মিনিটে ভুল করে বক্সের বাইরে চলে আসেন বল ক্লিয়ার করতে। ওই সময় দুয়ের কিক ফের পেছনে সরে এসে বক্সের মধ্যে ব্লক করেন স্পেন কিপার। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকে ঠেকান তিনি। ৮৯ মিনিটে এমবাপের শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে ফ্রান্সের এই তারকার একটি শট নিজের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে ক্লিয়ার করেন কুকুরেয়া। 

আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে হবে ফাইনাল। ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে স্পেন। অবশ্য ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়নি। তারা ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলের সঙ্গে।

  বিষয়:   ফ্রান্সকে বিদায়  ফাইনালে স্পেন 


Loading...
Loading...

খেলা- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: