২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই হাইভোল্টেজ লড়াই পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা অভিজ্ঞ রেফারিকে। গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
এই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় ম্যাচ রেফারি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার প্রায় প্রতিটি খেলায় রেফারির দিকে নজর ছিল ফুটবলসংশ্লিষ্টদের। ফলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাচ্ছেন তা নিয়ে বেশি আগ্রহ রয়েছে। ফিফা ম্যাচটিতে প্রধান রেফারির বাঁশি তুলে দিয়েছে আমেরিকান নাগরিক ইসমায়েল এলফাতের হাতে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় আটালান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। যেখানে প্রধান রেফারি হিসেবে এলফাত এবং সহকারী রেফারির দায়িত্বে থাকবেন তারই স্বদেশি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস।
এ ছাড়া ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি চতুর্থ রেফারি এবং দানিয়েলে বিনদোনি রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে আছেন।
৪৪ বছর বয়সী এলফাত দুবার আমেরিকার মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এমএলএসে ২০১২ সাল থেকে ম্যাচ পরিচালনা করছেন তিনি। পরবর্তীতে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় জায়গা পান ২০১৬ সালে।
২০২২ কাতারে এলফাত প্রথম কোনো বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করেন। ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ফাইনালের চতুর্থ রেফারির ভূমিকায় থাকা এই মার্কিনী এবার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার অপেক্ষায় আছেন।
চলতি বিশ্বকাপে এলফাত তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গ্রুপপর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান ও উরুগুয়ে-স্পেন ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এরপর শেষ ষোলোয় ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে নরওয়ের হারানো ম্যাচটিও এলফাত পরিচালনা করেছিলেন। বর্তমানে টেক্সাসের বাসিন্দা এলফাতের জন্ম অবশ্য মরক্কোয়। ১৮ বছর বয়সে ২০০১ সালে তিনি ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে সুযোগ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে খবর ইউএসএ টুডের।
বড় ম্যাচের হিসাবে উত্তর আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে পরিচিত এলফাত ২০২২ এমএলএস কাপের ফাইনাল এবং ২০২৬ কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ফাইনালের দায়িত্বে ছিলেন। এবার তার কাঁধে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মতো বহুল আলোচিত ম্যাচ। ফুটবলারদের মতো তাকে স্নায়ু ধরে রেখে দৃঢ়তার সঙ্গে ম্যাচটি পরিচালনার ভার সামলাতে হবে।
২১ বছর আগে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দুই জায়ান্ট দলের। ২০০৫ সালে প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর আর কখনও মুখোমুখি হয়নি তারা।
আর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের দেখা হতে যাচ্ছে ২৪ বছর পর। দুই দলের ইতিহাসে রয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় ও বিতর্কিত অধ্যায়।