চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে চাঁদা দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে তাদের কঠিন শাস্তি হবে কি না তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয়ও প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হামলাকারীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘এদের খুঁটির জোর কোথায়?’ একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘লক্ষণ খুব ভালো নয়।’
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে লেখেন, চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাণ্ডব চালানো দুর্বৃত্তদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কঠিন শাস্তির বিধান হবে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি লেখেন, সরকার কার্যকর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণকে নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। তার ভাষায়, একের পর এক নতুন ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার (১৪ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারের এক্সেস রোডে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনের কাছে চাঁদা দাবি করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ডেবিট ইমন। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দেওয়ায় দুই দিন পর মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের দাবি, সাজ্জাদ গ্রুপ তাদের কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। টাকা না পাওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। হামলার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রায় তিন মিনিট ধরে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত সরে যায়।
এ ঘটনার পর সন্ধ্যায় ডিডিএনের মালিকপক্ষ চকবাজার থানায় মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুন জানান, দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ডেবিট ইমন পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি প্রথমে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাইলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি না মানায় দুই দিন পরই তাদের প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ডেবিট ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী।