দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও মতপার্থক্যের অবসান ঘটিয়ে জোটে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন তারেক রহমান। এ লক্ষ্যেই শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন তিনি। বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন, জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের মান-অভিমান আর চাওয়া-পাওয়ার ক্ষোভ নিরসনে আগামী ২০ জুলাই যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে শরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
মিত্র দলগুলোর অভিযোগ, সরকার গঠনের পর বিএনপি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর ‘নামমাত্র’ বাস্তবায়ন করেছে। শরিকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া এই দূরত্ব ও টানাপোড়েন দূর করতে সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছেন তারেক রহমান।
মিত্রদের অভিমান দূর করার অংশ হিসেবে ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৈশভোজের আয়োজন করেছেন তিনি। সেখানেই শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির মিত্র দলগুলোর একাধিক নেতা জানান, ক্ষোভ ও অসন্তোষ থেকে সৃষ্ট দূরত্বের ব্যাপারে এরই মধ্যে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে অনেকের আলাপ হয়েছে। তাদের কেউ কেউ বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও দেখা করেছেন। সব ঠিক থাকলে ২০ জুলাই বিএনপির চেয়ারম্যানের নৈশভোজ হবে– এমনটাই জানানো হয়েছে শরিক দলগুলোর নেতাদের।
এদিকে ২০ জুলাই যমুনায় নৈশভোজের বিষয়টি সম্পর্কে বলছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্রও।
সূত্রটি বলছে, আমন্ত্রিতদের চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জানতে চাইলে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘তারেক সাহেবের (তারেক রহমান) আমাদের সঙ্গে বসার কথা শুনেছি। তবে অফিশিয়ালি এখনও দিন-তারিখ পাইনি।’
তারেক রহমানের সঙ্গে শরিকদের বৈঠক খুব তাড়াতাড়ি হবে বলে জানান এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। ২০ জুলাই ওই বৈঠক হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে। বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গেও এ ব্যাপারে আলাপ হয়েছে। এই সপ্তাহেই নৈশভোজের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে আশা করছেন এই নেতা।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেসব শরিক দল থেকে ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এই নৈশভোজে তাদের ডাকা হচ্ছে না। যারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বা সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাননি, তাদের মূল্যায়নের বিষয়টিই বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে।