শৈশবের দারিদ্র্য, পরিবারের আর্থিক সংকট এবং বাবার অসহায় মুখ—এই স্মৃতিগুলো আজও তাড়া করে বেড়ায় দক্ষিণ ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী বোরসেকে। বর্তমানে পর্দায় সাফল্যের স্বাদ পেলেও তাঁর জীবনের শুরুটা ছিল কঠিন সংগ্রামে ভরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা আবেগঘনভাবে তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে ভাগ্যশ্রী জানান, তার জন্মের পরই বাবা চাকরি হারান। এরপর দীর্ঘদিন পরিবারকে টিকে থাকতে হয়েছে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা-মাকে প্রতিনিয়ত সংসারের জন্য লড়াই করতে দেখেছেন। স্থিতিশীল জীবন কেমন, তা তাদের পরিবার কখনও দেখেনি।
অভিনেত্রীর ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংসারের প্রতিটি টাকার হিসাব তার চোখে পড়তে শুরু করে। অল্প কিছু টাকা বাঁচিয়ে কীভাবে পুরো সপ্তাহের খরচ চালানো হতো, সেই বাস্তবতা তাকে জীবনের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছে।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে ভাগ্যশ্রী বলেন, একদিন তিনি নিজের বাবাকে অন্য একজনের কাছে চাকরির জন্য অনুরোধ করতে শুনেছিলেন। বাবা বলেছিলেন, ‘দয়া করে আমাকে একটা চাকরি দিন। আমার দুটি মেয়ে আছে।’ সেই দৃশ্য আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
তিনি জানান, ওই মুহূর্তেই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন—বাবাকে আর কখনও এমন অসহায় অবস্থায় পড়তে দেবেন না। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে জন্ম নেওয়া ভাগ্যশ্রী বোরসে শৈশবের একটি অংশ কাটিয়েছেন নাইজেরিয়ার লাগোসে। পরে ভারতে ফিরে মুম্বাইয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং শুরু করেন। ‘ইয়ারিয়াঁ ২’ ও ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এ ছোট চরিত্রে অভিনয়ের পর রবি তেজার বিপরীতে ‘মিস্টার বচ্চন’ সিনেমায় প্রথমবার নায়িকা হিসেবে সুযোগ পান। এরপর ‘কিংডম’, ‘কান্থা’ ও ‘আন্ধ্র কিং তালুকা’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
সম্প্রতি অখিল আক্কিনেনির সঙ্গে তার নতুন সিনেমা 'লেনিন' মুক্তি পেয়েছে। এছাড়া শিগগিরই তামিল অ্যাকশন সিনেমা ‘সেয়ন’-এ অভিনেতা শিবকার্তিকেয়ানের বিপরীতে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে।