দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। মাতৃত্বকালীন বিরতি শেষে তার নতুন সিনেমা ‘টক্সিক: দ্য ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন আপস’ নিয়ে ফিরছেন তিনি। সিনেমাটি ঘিরে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে মুক্তির আগেই ছবির কিছু দৃশ্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই অভিনেত্রী।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘টক্সিক’-এর প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অনেক নেটিজেন ছবিটিকে ‘নারীবিদ্বেষী’ বলেও মন্তব্য করেন। সেই আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই প্রকাশ পায় সিনেমার প্রথম গান ‘তবাহি’। গানটিতে ইয়াশ ও কিয়ারার রসায়ন নজর কাড়লেও তাদের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
অনেক দর্শক গানটি পছন্দ করলেও ইয়াশ-কিয়ারার অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ এসব দৃশ্যকে অশালীন বলেও মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়ারাকে ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী।
এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা জানান, পুরোনো সিনেমায় প্রেমের উপস্থাপন তাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে। বিশেষ করে ‘মুঘল-এ-আজম’ সিনেমায় দিলীপ কুমার ও মধুবালার রসায়ন দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
কিয়ারা বলেন, বলিউডের অনেক সিনেমায় ভালোবাসার গল্প দেখা গেলেও পর্দায় প্রেমের গভীর ও আবেগঘন দিক খুব বেশি ফুটিয়ে তোলা হয় না। ‘টক্সিক’-এ এমন একটি অনুভূতিকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ভালোবাসার সঙ্গে আবেগ ও গভীরতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, অ্যাকশনধর্মী সিনেমার প্রচারণায় এত বেশি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো প্রয়োজন ছিল না। তাদের মতে, এতে সিনেমার মূল বিষয়বস্তুর বদলে অন্য ধরনের আলোচনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জানা গেছে, টিজার ও গান প্রকাশের আগেই সম্ভাব্য বিতর্ক নিয়ে ধারণা করেছিলেন কিয়ারা। এ কারণে তিনি নির্মাতা ও অভিনেতা ইয়াশের কাছে সিনেমার কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্য কমানোর অনুরোধও করেছিলেন।
কিয়ারার দাবি, শুটিংয়ের আগে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে কোনো দৃশ্যেই তিনি অস্বস্তিতে পড়বেন না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। তবে পরে চূড়ান্ত ফুটেজ দেখে তিনি অবাক হন বলে জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, নির্মাতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পর্দায় দেখা দৃশ্যের পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে ‘টক্সিক’ মুক্তির আগেই ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সিনেমাটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।