বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা দিলদার পর্দায় তার হাস্যরস ও অভিনয় দক্ষতার জন্য দর্শকের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তবে ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে কৌতুক অভিনেতার পরিচয় ছাড়িয়ে নায়ক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। যদিও শুরুতে তাকে নায়ক হিসেবে গ্রহণ করতে অনেকেরই আপত্তি ছিল। এমনকি তার বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সে সময়ের কয়েকজন জনপ্রিয় নায়িকাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিনেমাই হয়ে ওঠে বড় সাফল্যের উদাহরণ।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দিলদারের মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে তাকে স্মরণ করতে গেলে বারবার সামনে আসে তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত সিনেমা ‘আব্দুল্লাহ’-এর কথা।
সিনেমাটিতে দিলদারকে নায়ক হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব দেন নির্মাতা তোজাম্মেল হক বকুল। এমন প্রস্তাবে নিজেই বিস্মিত হয়েছিলেন দিলদার। জানা যায়, তিনি নির্মাতাকে বলেছিলেন, ‘আপনি কি আমার পেটে লাথি দিতে আসছেন?’ কারণ তার আশঙ্কা ছিল, নায়ক হিসেবে দর্শক তাকে গ্রহণ না করলে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে গড়ে ওঠা ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে নির্মাতার অনুরোধ ও আশ্বাসের পর শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হন।
এরপর শুরু হয় নায়িকা নির্বাচন নিয়ে জটিলতা। সে সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী, শাবনূরসহ কয়েকজন শীর্ষ নায়িকার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা দিলদারের বিপরীতে অভিনয়ে আগ্রহ দেখাননি। পরে নির্মাতা অভিনেত্রী নূতনের কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেলে তিনি এতে সম্মতি জানান।
তবে নূতনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তৈরি হয়েছিল নানা আলোচনা। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, সিনেমাটিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে ফোন করে কাজটি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, দিলদারকে নায়ক করে নির্মিত সিনেমা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু সব মতামত উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন নূতন।
শুটিং শেষ হওয়ার পরও নির্মাতা ও প্রযোজকের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। এমনকি হল মালিকদের কাছ থেকেও শুনতে হয়েছিল, দিলদারকে নায়ক করে সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক হয়েছে।
তবে মুক্তির পর দর্শকের সাড়া সব সংশয়ের অবসান ঘটায়। দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে দর্শকের ভিড় জমে যায়। মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে ‘আব্দুল্লাহ’র প্রশংসা। সে সময়ের হিসাবে সিনেমাটি প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যবসা করে, যা ছিল বড় ধরনের সাফল্য।
দিলদারের ক্যারিয়ারে ‘আব্দুল্লাহ’ শুধু একটি সফল সিনেমা নয়, এটি ছিল প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেওয়ার একটি দৃষ্টান্ত। যাকে নায়ক হিসেবে নিয়ে অনেকে সংশয়ে ছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত দর্শকের ভালোবাসায় বক্স অফিসে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন।