আর্জেন্টিনার ফুটবল নিয়ে কথা উঠলেই যাদের কণ্ঠে লিওনেল মেসির প্রশংসা শোনা যায়, তাদের অন্যতম ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল। একসময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে মেসিকে এগিয়ে রেখে তাকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের একজন বলেছিলেন তিনি। কোলের মতে, মেসি এমন একজন ফুটবলার, যিনি ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব অর্জন পূর্ণ করে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা নিয়ে এবার বেশ আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন জো কোল। মেসির প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও তিনি মনে করছেন, এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
কোল বলেন, ‘আমরা জানি আর্জেন্টিনার শক্তি কোথায়। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, আমরাই তাদের হারাব। ভেতর থেকে আমি সেটাই অনুভব করছি।’
জো কোলের পর ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক তারকা গ্যারি নেভিলও যোগ দিয়েছেন আলোচনায়। তবে তার বিশ্লেষণের মূল বিষয় মেসি নন, বরং আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
নেভিলের মতে, রোমেরো ও মার্তিনেজ এমন এক জুটি, যাদের পারফরম্যান্সে একই সঙ্গে বিশ্বসেরার ছাপ এবং বড় ভুলের ঝুঁকি দেখা যায়। তিনি বলেন, এক মুহূর্তে তারা অসাধারণ কিছু করে নিজেদের বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে প্রমাণ করতে পারেন, আবার পরের মুহূর্তেই এমন ভুল করতে পারেন যা অবাক করে দেয়।
তবে এই দুই ডিফেন্ডারের লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেছেন নেভিল। তার মতে, রোমেরো ও মার্তিনেজের বড় শক্তি হলো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা।
তিনি বলেন, কখনো মনে হতে পারে তারা প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দেবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় তারাই গুরুত্বপূর্ণ হেড, ট্যাকল বা গোল করে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তাদের মধ্যে আলাদা এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ও শক্তি কাজ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেভিলের বিশ্লেষণে যেমন সতর্কতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রশংসাও। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে রোমেরো-মার্তিনেজ জুটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাদের আগ্রাসী ফুটবল, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দলকে রক্ষা করার মানসিকতা।
সেমিফাইনালের আগে তাই মাঠের বাইরের বিশ্লেষণও জমে উঠেছে। একদিকে জো কোলের বিশ্বাস, ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারে। অন্যদিকে গ্যারি নেভিলের বিশ্লেষণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে যেমন প্রশংসা করা হয়েছে, তেমনি উঠে এসেছে তাদের দুর্বলতার দিকও।