হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের ওপর আবারও রাতভর অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী ‘এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি’ নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ হন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সংকট সমাধানে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইরানের দাবি, কয়েকটি জাহাজ অননুমোদিত পথে নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বারবার সতর্ক করা হলেও তারা তা মানেনি। এরপর সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তেহরান।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুপক্ষের নতুন নতুন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
দুই দেশের চলমান উত্তেজনায় উপসাগরীয় অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।
নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এই সংকট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স