যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইরান কোনো অনুরোধ জানায়নি বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের কাছে তারা কোনো আলোচনার প্রস্তাব দেয়নি। তবে যুদ্ধবিরতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের এক মধ্যস্থতাকারী নিজ উদ্যোগে ইরান সফর করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সামরিক হামলা, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইরানের তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করছে। বাঘাই বলেন, ‘প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি’ নীতিতেই ইরান অটল থাকবে। অপর পক্ষ সমপর্যায়ের পদক্ষেপ না নিলে তেহরানও কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে না।
ইসমাইল বাঘাই আরও জানান, কাতারের মধ্যস্থতাকারী তেহরানের আহ্বানে নয়, বরং নিজ উদ্যোগে ইরান সফরের আবেদন করেছিলেন। মাশহাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিদের কাছে ইরান তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নতুন হামলা, মার্কিন ট্রেজারির মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
বাঘাই বলেন, ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার সময়ও ওয়াশিংটন ইরানকেই দায়ী করেছিল। একইভাবে বর্তমান সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতাও যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অনুরোধে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার দাবি, বৈঠকের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর আইনি কার্যকারিতা হারিয়েছে। তিনি আরও জানান, চীন ও রাশিয়া বৈঠকটির বিরোধিতা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশের দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন ইসমাইল বাঘাই। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ওই হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাই এ ধরনের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার ওমান সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন বাঘাই। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।