কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ভার্চুয়াল অভিনেত্রী টিলি নরউড এবার প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছে। ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ শিরোনামের কমেডি-ড্রামা সিনেমাটি পরিচালনা করছেন এলাইন ভ্যান ডেন ভেলডেন। আর এআই অভিনেত্রী টিলিকে তৈরি করেছে লন্ডনভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পার্টিকল ৬।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ইতোমধ্যে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা ও প্রযুক্তিবিদসহ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ৩০ জনের বেশি পেশাজীবীকে এআই ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে এবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজে লাগানো হচ্ছে।
প্রযোজনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ নির্মাণে প্রচলিত চলচ্চিত্রকর্মীদের পাশাপাশি এআই বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত থাকবেন। পরিচালক, লেখক ও সম্পাদকের মতো সৃজনশীল পেশাজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তৈরি হবে সিনেমাটি।
কমেডি-ড্রামা ঘরানার এই চলচ্চিত্রে কৈশোর, আত্মপরিচয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্বসংকটকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হবে।
সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে ‘টিলিভার্স’ নামের একটি কাল্পনিক ডিজিটাল জগতকে ঘিরে, যা ক্লাউডের কোথাও অবস্থিত বলে কল্পনা করা হয়েছে। সেখানে টিলি এমন এক এআই সত্তা, যার নিজের কোনো শরীর, শৈশব কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেই। তবে মানবজাতির সব অভিজ্ঞতার তথ্য তার নাগালে রয়েছে।
পরিচালক এলাইন ভ্যান ডেন ভেলডেন বলেন, ‘সিনেমাটি হবে মজার, বিশৃঙ্খল এবং আত্মসচেতন—ঠিক টিলির মতোই। তবে এর ভেতরে আত্মপরিচয়, অভিনয় এবং এআইকে ঘিরে মানুষের গভীর আশঙ্কার মতো বিষয়ও উঠে আসবে। অনেক দিক থেকেই এটি বাস্তব জীবনের প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিলি নরউডকে তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল সৃজনশীল শিল্পকে দেখানো যে, বর্তমান সময়ে এআই প্রযুক্তি দিয়ে কী কী করা সম্ভব। আমাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শুধু আধুনিক এআই প্রযুক্তির ব্যবহারই তুলে ধরা হবে না, বরং চলচ্চিত্র শিল্পের কর্মীদেরও এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হবে।’
এলাইন ভ্যান ডেন ভেলডেনের ভাষায়, ‘ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিল্পে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই আমরা চাই, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পরিবর্তিত বাস্তবতায় নিজেদের আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন।’
সূত্র: ডেডলাইন ডটকম