ফেনীতে মোহনা টিভির ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম প্রতিনিধি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজিবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ফেনী প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়বে।
ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রবিউল হক রবি, মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, জসিম মাহমুদ, কামাল উদ্দিন ভূঞা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, স্বদেশপত্র সম্পাদক এনএন জীবন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, বণিক বার্তা প্রতিনিধি নুর উল্যাহ কায়সার, একাত্তর টিভি ও যুগান্তর প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন, শেখ কামাল, এমএম রহমান সোহেল, জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, কবির আহমদ নাসির এবং ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদারসহ অন্যরা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ছাগলনাইয়া উপজেলার সোনাপুর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কথা বলে ডেকে নিয়ে সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজিবকে মারধর করা হয়। পরে তাকে ফেনী নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সজিবের অভিযোগ, হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। তিনি দাবি করেন, তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া ব্যক্তি এমরান শিকদার, যাকে তিনি পূর্ব থেকেই চিনতেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজিব বাদী হয়ে এমরান শিকদারকে প্রধান আসামি করে দুজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইউনুস (৪৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।