চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ধার

2026-07-10T15:43:22+00:00
2026-07-10T15:43:22+00:00
  শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,
২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
 
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভোরের ডাক ডেস্ক
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলমান দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও ত্রাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের প্রভাব কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।

তার নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে মাহদী আমিন তার নিজের ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান।

মাহদী আমিন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি জানান, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অজস্র পরিবার। সংকটময় এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মানবিক ও কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে মাহদী আমিন ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। 

উদ্যোগগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো—

১। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২। চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।

৩। জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা অনুদান এবং ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গত মানুষদের কাছে দ্রুততম সময়ে  সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪। সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছেন, সশরীরে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

৭। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক উদ্যোগে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। একই সঙ্গে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে। এই সংকটে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ জনগণের পাশে রয়েছেন।

৮। ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯। এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

১০। টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়াও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য সরকার নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করবে।

আমরা বিশ্বাস করি, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন। জনগনের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: